আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুর মহানগরীর সিও বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আলোচিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত রাজিব হোসেন সুমন ওরফে মেরিল সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ বা এসআরবি-১৩।
তার বয়স পঁয়ত্রিশ বছর এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১৩-এর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার হওয়া মেরিল সুমন রংপুর মহানগরীর শালবন শাহীপাড়া এলাকার মো. আবু হানিফের ছেলে।
এসআরবি-১৩-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে থাকা ২৬টি মামলার মধ্যে হত্যা চেষ্টা ও মারামারির আটটি, চাঁদাবাজির চারটি, ডাকাতির প্রস্তুতির তিনটি, অস্ত্রের ছয়টি এবং হত্যা, অপহরণ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে একটি করে মামলা রয়েছে।
রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলায় তাকে মূলত গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতীতেও তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং অপরাধজগতের সঙ্গে তার দীর্ঘ সংযোগ রয়েছে।
২০১৫ সালে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ তৎকালীন র্যাব-৫ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালে রংপুরের তাজহাট এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, গুলি, শুটার গান ও চাইনিজ কুড়ালসহ তৎকালীন র্যাব-১৩-এর হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে রংপুর মহানগরীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে পিস্তল ও ইয়াবাসহ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে হামলা, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনার অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এসআরবি-১৩-এর দাবি, মেরিল সুমন দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলের অপরাধজগতে সক্রিয় থেকে সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে আসছিলেন।
তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে এসআরবি-১৩ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তার কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
এছাড়াও তার সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বর্তমানে অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এসআরবি-১৩ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পরবর্তীতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া, ভারপ্রাপ্ত) মুহম্মদ মনিরুজ্জামান।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসঅ্যাপ: 01718456839