• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল! শাশুড়িকে মারধর করার অপরাধে আটক হলেন পুত্রবধূ শিরোনাম বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে চার লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ সম্প্রীতির বারতা নিয়ে বুড়িচংয়ে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল কাদের ভূঁইয়া দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন জনপ্রতিনিধি ও নেতারা যশোরে ভ্যান তল্লাশি করে পিস্তল ও গুলিসহ অস্ত্র কারবারি আটক রংপুরে ২৬ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরিল সুমনকে গ্রেপ্তারে র‍্যাবের সফল অভিযান উৎসবের আলোয় রাঙা পঞ্চগড়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শুভেচ্ছা ও উপহার পৌঁছে দিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এম.এ মজিদ। পান কি সত্যিই রক্ত পরিষ্কার করে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা কবিরাজকে মারধর ও প্রস্রাব খাওয়ানোর ঘটনায় বীরগঞ্জে মামলা, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে গণদাবি বীরগঞ্জে উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা: উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়ানোর তাগিদ

কবিরাজকে মারধর ও প্রস্রাব খাওয়ানোর ঘটনায় বীরগঞ্জে মামলা, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে গণদাবি

মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার (বীরগঞ্জ) দিনাজপুর
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক বৃদ্ধ তান্ত্রিক কবিরাজকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জোরপূর্বক প্রস্রাব খাওয়ানোর লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯ অক্টোবর সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের অর্জুনাহার কচুয়াবাড়ি শ্মশান এলাকায়। সেদিন রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ৭০ বছর বয়সী গ্রাম্য কবিরাজ মোকছেদ আলী ওরফে নেন্দু বজিরকে সঙ্গে নিয়ে ঝাড়ফুঁক ও তান্ত্রিক কাজের উদ্দেশ্যে মংগুলু মোহাম্মদের ভ্যানে করে ওই শ্মশানে যান।
তারা শ্মশানের কালী মন্দিরের সামনে শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী মোমবাতি জ্বালিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করেন। অর্জুনাহার থেকে ঝাড়বাড়িগামী রাস্তার সংলগ্ন শ্মশান ও কালী মন্দির হওয়ায় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মৃত নবাব আলী ওরফে নবাইয়ের ছেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং মৃত সাবদারুলের ছেলে বদিউল আলম বুলেট বিষয়টি দেখতে পান।
দৃশ্যটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তারা কবিরাজ ও অন্যদের জোরপূর্বক আটক করেন এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। জানা গেছে, পথচারী এই দুজনেই আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে শতগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাচ্ছেন।
বৃদ্ধ তান্ত্রিক কবিরাজ ও অন্যদের মারধরের খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সেখানে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। জনগণের উপস্থিতিতেই ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ও বুলেট পিতৃতুল্য বৃদ্ধ নেন্দু ও বজিরকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন এবং মাটিতে ফেলে দেন।
একপর্যায়ে নেন্দুর জন্য আনা বদনায় প্রস্রাব ভরে সেই প্রস্রাব জোরপূর্বক তার মুখে ঢেলে খাওয়ানো হয়। শুধু তাই নয়, অত্যন্ত অমানবিক ও পৈশাচিক এই পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় নেন্দু ও বজিরকে উদ্ধার করে বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। থানায় লিখিত অভিযোগকারী এবং কবিরাজের পুত্র আব্দুল বাছেত জানিয়েছেন যে নির্যাতনের একপর্যায়ে তার বাবা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন।
ভুক্তভোগী তান্ত্রিক কবিরাজ নেন্দু, বজির ও মংগলু তিনজনেই অর্জুনাহার নালপাড়ার বাসিন্দা। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এবং তাদের এলাকার মেম্বার না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে আইন নিজের হাতে তুলে এমন জঘন্য ও মানবতাবিরোধী কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই কথা, আনোয়ার মেম্বার ও বুলেটের এই বর্বরতার উপযুক্ত বিচার চাই। যা এখন ওই এলাকার মানুষের জোরালো গণদাবীতে পরিণত হয়েছে।
যেকোনো মুহূর্তে এই উদ্ভূত ঘটনা থেকে বড় রকমের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। অর্জুনাহার বাজার এলাকা বর্তমানে উত্তাল রয়েছে এবং সেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে,  প্রতিশোধের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ওই এলাকার বিক্ষুব্ধ অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
মারধর ও প্রস্রাব খাওয়ানোর এই বর্বর ঘটনার পর গভীর রাতে আহতদের স্থানীয় বিএনপি নেতা এবং অপর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হবিবর রহমানের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে এবং এর পক্ষে অসংখ্য সাক্ষ্যপ্রমাণও পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং বুলেটের সঙ্গে কথা বললে তারা কবিরাজকে মারধর ও মূত্র পান করানোর কথা স্বীকার করেন। তবে তাদের দাবি, জনগণের চাপের মুখেই নাকি এই মারপিট ও প্রস্রাব খাওয়ানোর ঘটনা ঘটেছে।
ন্যায্য বিচারের আশায় এবং এই অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ভিকটিমের ছেলে আব্দুল বাসেত বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, একজন সচেতন জনপ্রতিনিধি ও অন্যজন প্রার্থীর এমন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অত্যন্ত অশোভনীয় ও বেআইনি। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন।
চেয়ারম্যান আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের মেম্বারশিপ বাতিল বা বরখাস্ত হতে পারে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসঅ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ