রংপুর নগরীর পশ্চিম জুম্মাপাড়া ও মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাসা থেকে সাবেক এক শিক্ষকসহ একই পরিবারের চার সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে ওই বাসার ভেতর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং বারো বছর বয়সী ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রের তথ্য মতে, গত কয়েক দিন ধরেই বাড়িটি বাইরে থেকে শিকল টানা ও তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরিবারের কারও কোনো চলাফেরা বা সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের মনে নানা সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। একপর্যায়ে বাড়িটির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে স্থানীয়রা কোনো সময় নষ্ট না করে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দরজার তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পর দেখতে পান একটি কক্ষের ভেতরে চারজনের দেহ পড়ে রয়েছে। আকস্মিক এই দৃশ্যে পুরো এলাকায় নেমে আসে এক থমথমে নীরবতা।
পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে জানা যায়, গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল দীর্ঘ দিন রংপুর জিলা স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তিনি বর্ণাঢ্য কর্মজীবন থেকে অবসরে যান। অবসর জীবনের পর তিনি সময় কাটানোর জন্য এবং এলাকার মানুষের সেবা দিতে রংপুর সমবায় মার্কেটে একটি homeopathy চেম্বার খুলেছিলেন। নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়েই কাটছিল তাঁর অবসর সময়।
তবে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে একই পরিবারের এই চার সদস্যের এমন বিয়োগান্তক পরিণতি ঘটল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এটি কোনো বাহ্যিক অপরাধমূলক ঘটনা নাকি পারিবারিক কোনো সংকট—সে বিষয়ে নিশ্চিত করে এখনই কিছু বলতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং মৃত্যুর সময় ও কারণ নির্ধারণের জন্য পুলিশ এবং ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের ফরেনসিক দল যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। পরবর্তীতে সব তথ্য-প্রমাণ ও আলামত সংরক্ষণের পর দেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদের জানান, ঘটনাস্থলে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ও বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। ঘটনার মূল কারণ উন্মোচনে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক পরীক্ষা শেষ হলেই বিস্তারিত সত্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।