মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া এলাকায় ১৬ বছরের এক নাবালিকা নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের পর পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে তাকে পুনরায় পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হাজী নূর হোসেন নবি। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আইনি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নিজের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পারিবারিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ তারিখ বাসা থেকে বের হয়ে আচমকা নিখোঁজ হয় ১৬ বছরের ওই কিশোরী। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবার। কিশোরীটির মা জিয়াসমিন আক্তার জানান, তার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তারা বিষয়টি ইউপি সদস্য নবিকে অবহিত করেন। কারণ যে ছেলের সাথে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল, সে সম্পর্কে ইউপি সদস্যের ভাগিনা হয়। মেয়েটির কোনো সন্ধান না পেয়ে পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার।
লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ তদন্তে নামে। জিয়াসমিন আক্তার জানান, তিনি টঙ্গীবাড়ী থানার উপপরিদর্শক ওসমানকে সাথে নিয়ে ইউপি সদস্য ও ছেলের পরিবারের বাসায় যান। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে নিখোঁজ কিশোরীকে দ্রুত হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাত্তার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জিয়াসমিন আক্তারকে ফোন করে জানানো হয় যে তার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এসে নিয়ে যেতে বলা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, তাই মেয়েটিকে যেন থানাতেই হস্তান্তর করা হয়।
কিন্তু পরিবারের সেই দাবি উপেক্ষা করা হয়। কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, তাকে বা তার পরিবারকে না জানিয়ে পরদিন ইউপি সদস্যের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন যে মেয়েটি কোথায় আছে তা তাদের জানা নেই। পরবর্তীতে জিয়াসমিন আক্তার জানতে পারেন, ইউপি সদস্য পুলিশের কাছে না দিয়ে সেই রাতে মেয়েটিকে তার নিজের ভাইয়ের ঘরে আটকে রেখেছিলেন। গভীর রাতে তাদের সেখান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়। এ ব্যাপারে সাহায্য চাইতে গেলে ইউপি সদস্য তাদের প্রতি অবহেলাসূচক আচরণ করেন এবং যা খুশি তা করার হুমকি দেন। বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে যার নম্বর ২০৭/২০২৬। সন্তানের সুনির্দিষ্ট সন্ধান ও নিরাপত্তার স্বার্থে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বেতকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হাজী নূর হোসেন নবি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, সামাজিকতার কথা বিবেচনা করেই উদ্ধারকৃত মেয়েকে থানায় সোপর্দ করা হয়নি। মেয়েটি বর্তমানে যেখানেই থাকুক না কেন, অভিভাবকরা চাইলে তারা খোঁজ নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
পুরো বিষযে জানতে চাইলে টঙ্গীবাড়ী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ শামীম হোসেন জানান, কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায় থানায় আগেই একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা চলমান রয়েছে। ঘটনাটি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও আইনি পদক্ষেপ আদালতই গ্রহণ করবেন।