আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের কার্যক্রম। একই সাথে এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের ১ম সেমিস্টারের কোর্সওয়ার্ক ক্লাসের পাঠদানও চালুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যুক্ত হলো এক নতুন ধারা। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন তিনের মার্কেটিং বিভাগের গ্যালারি রুমে এই কার্যক্রমের সুশৃঙ্খল সূচনা ঘটে। উক্ত ক্লাসে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পুনঃভর্তিকৃত এবং একই শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত পূর্ণকালীন ভর্তিকৃত গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম দিনের সেশনে ১ম সেমিস্টারের কোর্সওয়ার্ক ক্লাসের নির্ধারিত কোর্স স্ট্যাটিসটিক্স ইন রিসার্চের কোর্সশিক্ষক পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ শাহ্জামান পাঠদান করেন। পাশাপাশি একই সেমিস্টারের রিসার্চ মেথডলজি কোর্সের শিক্ষক ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মতিউর রহমান পৃথক সেশনে গবেষকদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেন। দুটি সেশনেই উপস্থিত গবেষকরা গভীর আগ্রহ ও মনোযোগের সাথে ক্লাসে অংশ নেন।
এমফিল ও পিএইচডি গবেষকদের বাধ্যতামূলক কোর্সওয়ার্ক ক্লাস চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে অনুভূতির কথা জানান ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। তিনি অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন যে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি স্মরণীয় দিন, কারণ এখানে নতুন এক গবেষণার মাত্রা সংযোজিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গবেষকরা বাধ্যতামূলক কোর্সওয়ার্ক ক্লাস ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়ে নির্ধারিত তত্ত্বাবধায়কের অধীনে সফলভাবে মূল গবেষণা কাজ শেষ করবেন। এই গবেষণালব্ধ ফলাফল ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের পাশাপাশি সমগ্র দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। একই সাথে ইনস্টিটিউটটিকে সচল ও ফলপ্রসূ রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা চান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পুনঃভর্তিকৃত গবেষকের সংখ্যা ৫৫ জন এবং নিয়মিত পূর্ণকালীন ভর্তিকৃত গবেষকের সংখ্যা ১৩ জন। এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম সংক্রান্ত ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের গবেষকদের জন্য এই কোর্সওয়ার্ক সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রথম দিনের পাঠদান সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোর্সশিক্ষক এবং ইনস্টিটিউটে কর্মরত সবার প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষায় গতি আনা এবং গবেষণার পরিধি বিস্তারে একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন বাধা ও চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে অবশেষে দুই বছর পর পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো উচ্চতর গবেষণার এই অনন্য প্রতিষ্ঠানটি।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839