• রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী মিলন মেলা সফল করতে প্রাক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ডিমলায় ইউপি প্রার্থী সুজন মাদক মামলায় কারাগারে, এসপির কার্যালয়ে স্বজনদের বিক্ষোভে পুলিশের ধাওয়া ও আটক ১৫ কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে পিস্তল, গুলি ও এক কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার গঙ্গাচড়ায় বালু উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলা, হাসপাতালে ভর্তি কুড়িগ্রামে মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে অটোচালক নিখোঁজ, হাসপাতালে মিলল উদ্ধার, অটোরিকশা উধাও বেরোবিতে গবেষণা প্রসারে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু বুড়িচংয়ে ৩৮০ পিস ইয়াবাসহ স্থানীয়দের হাতে যুবক আটক, উদ্ধারকৃত মাদকসহ পুলিশে সোপর্দ কুমিল্লায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করল কুমিল্লা ব্লক এন্ড কনস্ট্রাকশন পশ্চিমের আকাশে প্রযুক্তি-ফ্যাসিবাদের উদয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার নতুন সংকট সুস্থ জীবন গড়ার লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু

ডিমলায় ইউপি প্রার্থী সুজন মাদক মামলায় কারাগারে, এসপির কার্যালয়ে স্বজনদের বিক্ষোভে পুলিশের ধাওয়া ও আটক ১৫

রাহেনা বারী আয়না, স্টাফ রিপোর্টার (ডিমলা) নীলফামারী
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুজন ইসলাম বর্তমানে একটি মাদক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলা এই ব্যক্তির হঠাৎ গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চঞ্চলতার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় শনিবার বিকেলে নীলফামারী শহরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে তাঁর মুক্তির দাবি নিয়ে স্বজন ও সমর্থকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের সমাবেশ স্থলী ত্যাগ করার তাগিদ দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা উত্তপ্ত রূপ ধারণ করে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তৎক্ষণাৎ ধাওয়া চালিয়ে অন্তত ১৫ জনকে নিজেদের জিম্মায় নেয়।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ধাওয়া খেয়ে আটক হওয়া ব্যক্তিদের নীলফামারী সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাঁদের বিষয়ে তথ্য যাচাই ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক সূত্রে আটককৃতদের মধ্যে মঞ্জু, সামিউল ইসলাম হাফেজ, ছোয়াদ এবং আবু সামা নামের কয়েকজনের পরিচয় সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব হলেও আইনগতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য কিছু জানা যায়নি। উল্লেখ্য, সুজন ইসলাম দোহলপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য মো. নুর হকের সন্তান। তিনি বেশ কিছু সময় ধরে খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দিতা করার মানসিক প্রস্তুতি ও গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি সৈয়দপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি পুলিশের একটি দল তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি সুনির্দিষ্ট মাদক মামলায় অভিযুক্ত দেখিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারকের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

 

স্বজনদের আকস্মিক এই প্রতিবাদ এবং এসপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সুজনের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলোর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সুজন ইসলামের বিরুদ্ধে কেবল বর্তমানের মামলাটিই নয়, বরং পূর্বেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দেশের একাধিক থানায় বেশ কয়েকটি মামলা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। নথিতে থাকা তথ্য বিবরণী বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, তাঁর নামে ডিমলা ও জলঢাকা থানায় ২০১৯ সালের পৃথক দুটি মামলা রয়েছে। তাছাড়াও নীলফামারী সদর থানায় ২০১৮ সালের এবং রাজধানী ঢাকার দারুস সালাম থানায় ২০২১ সালের আরও একটি মামলার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ডিমলা ও জলঢাকা থানার মামলাগুলোতে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত আইনি কাঠামোর নির্দিষ্ট ধারা ও সারণির প্রয়োগ দেখা যায়, যেখানে অন্তত একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট বা অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছেন।

 

তবে এই ধরনের পুরনো নথির ওপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তির বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা কঠিন। সুজন পূর্বের কোন মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন, কোনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পন্ন হয়েছে কিংবা কোন নির্দিষ্ট অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তাকে নতুন করে কারাগারে পাঠানো হলো, তা আদালতের চূড়ান্ত নথি পর্যবেক্ষণ না করে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দৃঢ় বিশ্বাস, সুজনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অন্যায় অভিযোগে এই আইনি জটিলতার ভেতর ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হলে একটি স্বাধীন তদন্ত আবশ্যক। বিপরীতে, প্রশাসনের খাতায় বিদ্যমান একাধিক মাদক মামলার নথির উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে নতুন ভাবনার সঞ্চার করেছে। তা সত্ত্বেও বিচারিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক নিয়ম হলো, যতক্ষণ না আদালতের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত রায় প্রকাশ পাচ্ছে, ততক্ষণ আইনি দৃষ্টিতে কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করা কোনোভাবেই সঙ্গত নয়।

 

সুজনের ভবিষ্যৎ জনপ্রতিনিধি হওয়ার দৌড় এবং পরবর্তীতে ঘটা এই ঘটনাপ্রবাহ পুরো ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে গভীর কৌতূহল ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে স্থানীয় রাজনীতি এবং একটি সামাজিক মামলার ঘটনা কেবল এক ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো ব্যবস্থার ওপর আলোর রশ্মি ফেলছে। এলাকায় সুজনের অর্জিত অর্থ সম্পদ ও সেগুলোর বৈধ্যতার বিষয়েও নানা কথা শোনা যায়, তবে সরকারি নির্দিষ্ট বিভাগীয় যাচাইপত্র ছাড়া সেগুলোকে একক কোনো সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ নেই। এখন সব মহলের দাবি একটাই, যাতে ঘটনাগুলোর আসল সত্য দ্রুত বের হয়ে আসে। সেই সাথে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের সময় ধাওয়া ও পরবর্তী আটকে রাখা সাধারণ নাগরিকদের বিষয়েও সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রত্যাশিত। পুরো বিষয়টি যেহেতু মানবাধিকার, আইনি সুরক্ষা এবং জনস্বার্থের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত, তাই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে আদালতের আদেশের মাধ্যমেই ঘটনার ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ