আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে একটি অস্ত্র, গুলি এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। গভীর রাতে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে ভারতের দিকে পালিয়ে গেছে চোরাকারবারিরা। ঘটনাটি ঘটেছে রামখানা ইউনিয়নের রামখানা বিওপির আওতাধীন পূর্ব রামখানা আশকোন নগর এলাকায়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে ভারত থেকে অবৈধ পথে অস্ত্র ও মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে আনা হতে পারে। এই সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির সদস্যরা রামখানা সীমান্ত এলাকার সম্ভাব্য বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি জোরদার করেন। রাতের অন্ধকার ও নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে চোরাকারবারিরা সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু টহল দলের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তারা আর সামনে এগোনোর সাহস পায়নি। প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের সাথে থাকা পলিথিনের মোড়কটি ফেলে রেখে দ্রুত দৌড়ে ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চারপাশ ঘিরে ফেলেন এবং নিখুঁত তল্লাশি চালান। সে সময় ফেলে যাওয়া পলিথিনের মোড়ক থেকে একটি ভারতীয় বা দেশীয় পিস্তল, এক রাউন্ড তাজা গুলি এবং এক কেজি ওজনের সন্দেহজনক ক্রিস্টাল মেথ আইসের চালান জব্দ করা হয়। সীমান্ত পেরিয়ে আসা এই বিষাক্ত মাদক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র কার হাতে বা কাদের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত মাদকের ধরণ ও সার্বিক বিষয়ে কথা বলেছেন লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন ১৫ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লেফট্যানেন্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি। তিনি জানান, দেশের সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত রাখা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে বিজিবি দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের গোপন তথ্য ও অনুসন্ধানের ফলেই এই সফল অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে উদ্ধার হওয়া ক্রিস্টাল মেথ আইসের প্রকৃত মান পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় দেখা যায় চোরাকারবারিরা আইসের সাথে নিম্নমানের বা ভেজাল অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে দেয়। আবার কখনো কখনো সম্পূর্ণ আসল উচ্চমাত্রার আইসও পাচার করা হয়। তাই ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে জব্দ করা উপাদানটির ঘনত্ব বা মান কেমন। সীমান্তে এ ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধ করতে আগামীতেও বিজিবির টহল ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি ও মাদক নাগেশ্বরী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839