দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ভোগডোমা আশ্রয়ণ প্রকল্পে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পরিচালনার অপেক্ষায় থাকা নবনির্মিত ভোগডোমা আশ্রয়ণ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু। ৩১ মে রবিবার বেলা ১১টায় তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে যান।

এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ঘরের কাছে একটি বিদ্যালয় পাওয়া যেন এক দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন। বিদ্যালয়টি চালু হলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীসহ আশপাশের এলাকার ছেলে-মেয়েরা ঘরের কাছেই মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেখাপড়া করতে হতো। যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকা এবং দূরত্বের কারণে অনেকেই মাঝপথে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য দূর-দূরান্তে গিয়ে পড়ালেখা করা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য ও অনিরাপদ। নতুন এই বিদ্যালয়টি চালু হলে সেই দীর্ঘদিনের সমস্যা ও সংকট অনেকাংশে দূর হবে বলে গভীর আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিকরা।

বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন, থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, পাল্টাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ শিপনসহ এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতি এলাকাবাসীর মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
পরিদর্শন শেষে এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনে এবং নতুন বিদ্যালয়ের অবকাঠামো দেখে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আশ্রয়ণ এলাকার মানুষের শুধু পুনর্বাসন নয়, তাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে বলেই ভোগডোমা আশ্রয়ণে এই নতুন স্কুল স্থাপন করা সম্ভব হলো। এই দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে অত্রাঞ্চলের অবহেলিত ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে এবং এই জনপদে নিঃসন্দেহে শিক্ষার হার ও মান অনেক বৃদ্ধি পাবে।