ঢাকার কেরানীগঞ্জে সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং পরিবেশবিদদের তীব্র উদ্বেগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদারসে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিনের রমরমা ব্যবসা। প্রশাসনের তথাকথিত নজরদারিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন দুই ভাই আনিস ও আমিনুল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে এই ক্ষতিকর ব্যবসা চালিয়ে তারা আজ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়ি ও গাড়ি। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন, কার ইশারায় এবং কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে আইনকে অমান্য করে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এই আনিস ও আমিনুল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এই অবৈধ পলিথিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলেই নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন ও হুমকির খড়্গ। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা পরিবেশ ধ্বংসকারী এই নিষিদ্ধ ব্যবসার বিরুদ্ধে একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও থামানো যায়নি আনিসের দৌরাত্ম্য। উল্টো কোনো গণমাধ্যমকর্মী এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, পুলিশি হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এই চক্রের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, আনিস আর আমিনুলের সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলেই থানা-পুলিশ ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। শুধু তাই নয়, তাদের একটি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে যারা মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে রাখে।
পরিবেশ আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে কীভাবে বছরের পর বছর কেরানীগঞ্জে এই ক্ষতিকর ব্যবসা চলছে, তা নিয়ে এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায় এক প্রভাবশালী মহলের নাম। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, শুধু প্রশাসনকে সামাল দিয়েই আনিস ক্ষান্ত হননি, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের কিছু অসাধু নেতা এবং প্রশাসনের ভেতরের কিছু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ রয়েছে তাদের। নিয়মিত বড় অঙ্কের মাসোহারা বা অবৈধ বখরা দিয়েই এই পলিথিন সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় প্রতিদিন ট্রাকের পর ট্রাক নিষিদ্ধ পলিথিন কেরানীগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, দেশের আইন সবার জন্য সমান হলেও এই পলিথিন ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কেন আইন এতটা নিষ্ক্রিয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, একসময় সাধারণ জীবনযাপন করা আনিস ও আমিনুল পলিথিনের এই নিষিদ্ধ ব্যবসায় নামার পর যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান। বিগত কয়েক বছরে কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল জমি, বিলাসবহুল বাড়ি এবং দামী গাড়ির মালিক হয়েছেন তারা। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করা এই ব্যবসার অবৈধ টাকায় রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন এই দুই ভাই। এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বরাবরই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত অভিযান চালানো হবে বলে চেনা ছকে উত্তর দেন। তবে বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশা বিরাজ করছে। অবিলম্বে এই পলিথিন ব্যবসায়ী আনিস ও আমিনুলের খুঁটির জোর কোথায় তা খতিয়ে দেখার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। একই সাথে তাদের পেছনের গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচন করে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতঃ এই পরিবেশ ধ্বংসকারী অবৈধ ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পরিবেশবাদী আলোকচিত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পঁচনশীল পলিথিন, পাটের ব্যাগ ইত্যাদির দিকে যাওয়া উচিত এবং সরকারের উচিত পরিবেশ রক্ষার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে।