• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শব্দের অন্তরাল থেকে আলোর অভিযাত্রা : কবি পারুল আক্তার পান্নার কাব্যভুবন ডোমার কেতকীবাড়ীতে চলাচলের রাস্তা বন্ধের জেরে বাবা ও ছেলেকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ ১২ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবুজ পৃথিবী গড়তে রংপুরের বেতগাড়ীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ সীমান্তে হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধের দাবিতে চিলাহাটিতে ১১ দলের প্রতিবাদ সমাবেশ মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে মাঠে নেমেছে ডোমার থানা পুলিশ: ডোমারের কেতকীবাড়ীতে পুলিশের ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত সবুজ আগামীর প্রত্যাশায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু দিনাজপুরের বীরগঞ্জে টিনের দরজায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আদিবাসী নারীর মৃত্যু গংগাচড়ায় ইয়াবা ও হিরোইনসহ আটক মাদক ব্যবসায়ী, কারাদণ্ড প্রদান

প্রধানমন্ত্রীর অভিবাদনে পুলিশের শপথ

আই জামান চমক, ঢাকা
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

আই জামান চমক, icrbd24: মে মাসের সকাল বাংলাদেশে বরাবরই একটু অন্যরকম। রোদ ওঠে তেজ নিয়ে, কিন্তু বাতাসে তখনও একটু রাতের ঘুমের গন্ধ লেগে থাকে। সেই রোদেলা সকালে, রাজারবাগের বিস্তৃত প্রাঙ্গণে যখন হাজার বুটের তালে তালে ছন্দ তোলে একটি বাহিনী, তখন দেখতে দেখতে মনের ভেতর একটা অনুভূতি জন্ম নেয় — এই শৃঙ্খলা কি শুধু কুচকাওয়াজের? নাকি এর ভেতর আরও কিছু আছে?

১০ মে ২০২৬। পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে দাঁড়িয়ে অভিবাদন গ্রহণ করলেন। তাঁর সামনে দিয়ে এগিয়ে গেল শত শত পুলিশ সদস্য — মাথা সোজা, পা সমান, চোখে একটা স্থিরতা। কূটনীতিক, মন্ত্রী, আইজিপি — সবাই উপস্থিত। কিন্তু আমার মনে হলো, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি ছিল সেই প্যারেডটিই — একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডের প্রতীকী প্রকাশ।

একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্য, তা বোঝা যায় তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেখে। শুধু অস্ত্র আর ইউনিফর্ম দিয়ে পুলিশ হয় না। পুলিশ হতে হয় মানুষের ভরসার জায়গা। চার্চিল একবার বলেছিলেন, শক্তি ছাড়া সৌজন্য অর্থহীন, কিন্তু সৌজন্য ছাড়া শক্তি বর্বরতা। এই দুইয়ের সমন্বয়ই একটি বাহিনীকে প্রকৃত অর্থে জনগণের বাহিনীতে পরিণত করে।

তারেক রহমান আজ শুধু একটি প্যারেড দেখতে আসেননি। তিনি এসেছেন একটি বার্তা দিতে — রাষ্ট্র তার রক্ষকদের পাশে আছে। এই বার্তাটি ছোট নয়। যে পুলিশ সদস্য গভীর রাতে টহল দেন, যিনি বন্যার জলে মানুষ বাঁচান, যিনি দাঙ্গার মুখে বুক পেতে দেন — তাঁর জন্য রাষ্ট্রপ্রধানের এই উপস্থিতি একটি স্বীকৃতি। মানুষ স্বীকৃতির জন্যও বাঁচে।

তবু প্রশ্ন থাকে। প্যারেড সুন্দর, কুচকাওয়াজ মনোরম — কিন্তু থানার সেই সাধারণ মানুষটি, যিনি অভিযোগ নিয়ে যান এবং ফিরে আসেন খালি হাতে, তাঁর কাছে এই দৃশ্য কি পৌঁছায়? পুলিশ সপ্তাহের আলো কি শুধু রাজারবাগেই জ্বলে, নাকি জেলার প্রত্যন্ত ফাঁড়ি পর্যন্ত পৌঁছায়? এই প্রশ্নটা মাথায় রাখা দরকার — কারণ উৎসব ততক্ষণই অর্থবহ, যতক্ষণ তা পরিবর্তনের অঙ্গীকার বহন করে।

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “যে নিজেকে সেবায় দেয়, সে-ই সত্যিকারের মুক্ত।” পুলিশের এই ব্রত কিন্তু আসলে সেই সেবারই অঙ্গীকার। একজন পুলিশ সদস্য যখন নিজের পরিবার ছেড়ে ঈদের রাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন, যখন বিপদে প্রথম ছুটে যান — সেই মুহূর্তে তিনি শুধু সরকারি কর্মচারী নন, তিনি একটি সমাজের বিবেক।

পুলিশ সপ্তাহ তাই শুধু উদযাপন নয়। এটি একটি দর্পণ। এই দর্পণে বাহিনীকে নিজেকে দেখতে হবে — কোথায় তারা আলোকিত, কোথায় ছায়া এখনও ঘন। এবং রাষ্ট্রকেও দেখতে হবে — সেই আলো বাড়ানোর দায়িত্ব কি শুধু বাহিনীর, নাকি ব্যবস্থার?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন প্যারেড পরিদর্শন করলেন, সেই মুহূর্তটি কেবল আনুষ্ঠানিক নয়। এটি একটি প্রতিশ্রুতির মুহূর্ত। একটি রাষ্ট্র ও তার রক্ষকদের মধ্যে নবায়িত অঙ্গীকারের মুহূর্ত। সেই অঙ্গীকার যদি কাগজে না থেকে মানুষের অভিজ্ঞতায় রূপ নেয়, তাহলেই পুলিশ সপ্তাহ সত্যিকারের অর্থ খুঁজে পাবে।

রাজারবাগের সেই প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ যেন মানুষের দিকেই যায়। শৃঙ্খলার পতাকা শুধু আকাশে নয়, মানুষের হৃদয়েও উড়ুক।

লেখক: সাংবাদিক, কবি, কথাসাহিত্যিক, কলামিষ্ট, আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী। হোয়াটসঅ্যাপ: 01718456839


More News Of This Category