দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে এক এনজিও কর্মীকে পাশবিক কায়দায় গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম আসামি বিশ্বনাথ রায়কে অবশেষে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকার গুলিস্তান কাপ্তান বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। র্যাব-১৩ এবং র্যাব-১০-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য পায়। গ্রেফতারকৃত বিশ্বনাথ দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানাধীন নশরতপুর মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার শুরু হয় গত ২৮ জানুয়ারি। ভিকটিম নারী একজন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাজের সূত্রেই তার পরিচয় ছিল আতিকুল ইসলাম নামে এক যুবকের সাথে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে আতিকুল ভিকটিমকে জানায় যে, কিছু মানুষ নতুন ইন্স্যুরেন্স পলিসি করতে আগ্রহী। আতিকুলের কথায় বিশ্বাস করে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে সেদিন দুপুরে চিরিরবন্দরের ডাঙ্গারবাজার এলাকায় পৌঁছান ওই নারী। কিন্তু তিনি কল্পনাও করতে পারেননি তার জন্য সেখানে কী নৃশংসতা অপেক্ষা করছে।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, আতিকুল ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে জোরপূর্বক নশরতপুর ইউনিয়নের একটি নির্জন ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে এবং চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে প্রথমে একজন এবং পরবর্তীতে বাকিরা মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পাষণ্ডদের নিষ্ঠুরতা এখানেই থেমে থাকেনি; অভিযোগ রয়েছে যে তারা এই জঘন্য অপরাধের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে রাখে।
ভয়াবহ এই অভিজ্ঞতার রেশ কাটিয়ে ঘটনার দুই দিন পর অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। মামলার পর থেকেই আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। বিষয়টি র্যাবের নজরে এলে তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় ঢাকার বংশাল থানাধীন গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি বিশ্বনাথ রায়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একজন কর্মজীবী নারীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলায় জড়িত বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।