• শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আলমবিদিতর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য প্রার্থী মানিক সরকারের গণসংযোগ ও দোয়া প্রার্থনা বীরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জনপ্রিয়তার শীর্ষে দেবীগঞ্জের মাটির সন্তান রাসেল আহম্মেদ প্রধান কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জোবাইয়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি ডোমারের ক্যান্সার আক্রান্ত কমিলা ঋষির চিকিৎসা সহায়তার আকুতি, সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা পরিবার গঙ্গাচড়ায় ১০০ বোতল মাদকসহ আটক ২, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি মেহেরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা সাভার থানার ওসি পদে ডোমারে গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে ১১ দলের গণমিছিল ও আলোচনা সভা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে বীরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর গণমিছিল ও সমাবেশ পঞ্চগড়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

আওয়ামী লীগ নেতার দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক

ফয়সাল আহমেদ, সিনিয়র রিপোর্টার (ঢাকা)
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

একটি স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথ কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তার আরও একটি দৃষ্টান্ত ফুটে উঠল আদালত চত্বরে। ঢাকার সিএমএম আদালতে মঙ্গলবার এক আবেগঘন এবং আইনি লড়াইয়ের আবহে জামিন পেয়েছেন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের এক নেতার দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করার পর আদালত তার এই জামিন মঞ্জুর করেন। এই আদেশের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন ঘটেছে, অন্যদিকে প্রকাশ পেয়েছে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সংবাদকর্মীকে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৮ জুলাই ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের নেতা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানাধীন পুরানা পল্টনের একটি কথিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় পল্টন থানা পুলিশ মামলাটি এজাহারভুক্ত করে, যার নম্বর ৭ এবং তারিখ ৮ জুলাই ২০২৬। তবে মামলার শুরু থেকেই এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে অত্যন্ত জোরালোভাবে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে দেখান যে, মামলার এজাহারে যে দিন ও সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময়ে সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক দুর্ঘটনাস্থল বা পল্টনে ছিলেন না। তিনি তখন অবস্থান করছিলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভায় তার নিজ বাসভবনে। ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে আদালতের সামনে সেই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য অকাট্য প্রমাণাদি হাজির করা হয়, যা সাংবাদিক রফিকের নির্দোষ থাকার বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। একই সঙ্গে মামলার সঙ্গে যুক্ত করা কিছু কাগজ ও নথি যে জাল এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা-ও প্রাথমিকভাবে আদালতে প্রতীয়মান হয়। এই সমস্ত মানবিক দিক ও আইনি দুর্বলতা বিবেচনা করে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন শুনানির পর আসামিপক্ষের আইনজীবী আইনজীবী আতাউর রহমান মোল্যা গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এই আইনি লড়াইয়ে সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিকের পক্ষে একঝাঁক প্রবীণ ও বিশিষ্ট আইনজীবী অংশ নেন, যা পুরো ঘটনায় একটি মানবিক ও পেশাদার সংহতির পরিবেশ তৈরি করে। জামিন শুনানিতে অংশ নেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক, কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল কালাম খান, আইনজীবী মো. আতাউর রহমান মোল্যা, আইনজীবী জিয়া উদ্দিন সুমন এবং আইনজীবী কাঞ্চন বাহাদুর। তারা আদালতে তুলে ধরেন কীভাবে একজন সৎ এবং সাহসী সাংবাদিককে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মামলার গভীর অনুসন্ধান ও আইনজীবীদের বক্তব্য থেকে আরও একটি পুরোনো শত্রুতা ও প্রতিহিংসার চিত্র আদালতের সামনে উন্মোচিত হয়। মামলার বাদী আওয়ামী লীগের নেতা মো. শহিদুল ইসলামের অতীত ইতিহাস তুলে ধরে আইনজীবীরা জানান, ২০১৭ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাদের পরিবারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য করেছিলেন এই শহিদুল ইসলাম। সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক। সত্যের পক্ষে সাক্ষী দেওয়ায় এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সেই সময় থেকেই শহিদুল ইসলাম সাংবাদিক রফিকের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। এর জের ধরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার ও কুৎসা রটিয়ে আসছিলেন। আইনজীবীরা আরও জানান, ময়মনসিংহের পিবিআই ইতিমধ্যেই এই অপপ্রচারের ও হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের নেতা মো. শহিদুল ইসলামসহ ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত সেই মামলার ক্ষোভ ও প্রতিশোধ নিতেই এই জাল নথির মাধ্যমে পল্টন থানায় নতুন করে এই হয়রানিমূলক মামলাটি সাজানো হয়েছে বলে আসামিপক্ষ দাবি করে। আদালতের এই জামিনের আদেশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে প্রাথমিক জয় অর্জিত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


More News Of This Category