আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: গাইবান্ধায় মাদ্রাসার এক কিশোরী ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দ্বীনের দিশারী মহিলা হাফেজিয়া ও কওমী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাছান আলী ডাক্তারকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)। রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্যামলী ট্রাভেলস বাস কাউন্টারের সামনে থেকে ৬৯ বছর বয়সী এই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হাছান আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ীর মোড় এলাকার মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে ওই কিশোরীকে মাদ্রাসার আবাসিক শাখায় ভর্তি করা হয়। তার বাবা-মা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় বসবাস করেন। তারা প্রতি মাসে গাইবান্ধায় এসে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতেন এবং মাদ্রাসার যাবতীয় খরচ পরিশোধ করতেন। প্রায় ছয় মাস আগে থেকে মাদ্রাসার পরিচালক হাছান আলী ওই কিশোরীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি কিশোরী তার বাবা-মাকে জানালে তারা পরিচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। সে সময় তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার ফজরের নামাজের পর সকাল ৬টার দিকে পরিচালক ওই কিশোরীকে মাদ্রাসাসংলগ্ন নিজের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ভয়াবহ অন্যায় ও পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে হত্যাসহ লাশ গুম করার চরম হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে কিশোরী অত্যন্ত কৌশলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঢাকায় অবস্থানরত তার বাবা-মাকে ঘটনাটি জানায়। গত ৩১ আগস্ট তার বাবা-মা গাইবান্ধায় এসে মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে পরদিন ১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর ২২।
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেফতারে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় এসআরবি-১৩। তাদের সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর নজরদারির ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হাছান আলীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আধা-সামরিক এই বাহিনীটি।
গ্রেফতারের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও এসআরবি-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসঅ্যাপ: 01718456839