পঞ্চগড়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং গণহত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে পৃথক গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসঙ্গে ১ আগস্টকে কালো দিবস হিসেবে পালন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এই কর্মসূচি থেকে।
শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় জজকোর্টের সামনে থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পঞ্চগড় জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেরেবাংলা পার্ক চত্বরে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থিত জুলাই মঞ্চে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির শুরা সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মাওলানা ইকবাল হোসাইন। কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা মফিজ উদ্দীন, জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, পঞ্চগড় পৌর আমীর মাওলানা জয়নাল আবেদীন, হাড়িভাষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সায়েদ নুরে আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়া এবং কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ প্রধান। পুরো সমাবেশটির সঞ্চালনা করেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন। গণমিছিল ও সমাবেশে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য বক্তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অন্যায় ও অবৈধভাবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছিল। তারা মৌখিকভাবে নিবন্ধন বাতিলের কথা বললেও কাগজপত্রে তা করতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামী অতীতেও মাঠে ছিল এবং এখনও জনগণের পাশে আছে। নিবন্ধন বাতিল করে ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে অতীতে টিকতে পারেনি, ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক অপকৌশল করে কেউ টিকতে পারবে না। বর্তমানে কোনো অজুহাত দেখিয়ে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা তীব্রভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ১ আগস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে কালো দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। জুলাই সনদ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে, কারণ এটি না করা হলে তা দেশ ও জনগণের সাথে বেইমানির শামিল হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণভোটের পক্ষে রায় নেওয়ার জন্য ভোট চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর গণভোটের সেই রায় বাস্তবায়নে সরকার নানা ধরনের তালবাহানা শুরু করেছে। সংবিধান সংশোধন করে গণভোটের রায় কার্যকর করার কথা থাকলেও দুর্নীতি ও লুটপাট অব্যাহত রাখতেই সরকার তা ঝুলিয়ে রেখেছে। গণভোট যদি অবৈধ বা অকার্যকর হয়, তবে ওই জাতীয় সংসদ নির্বাচনও অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে জুলাই সনদ ও শপথের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় অবিলম্বে কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে অদম্য জুলাই ২০২৬ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৃথক গণমিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গণভোটের রায় কার্যকর, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। মিছিলটি পঞ্চগড় ব্যারিস্টার বাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌরঙ্গী মোড়ে এসে শেষ হয়।
পরবর্তীতে চৌরঙ্গী মোড়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন শিবিরের পঞ্চগড় জেলা সভাপতি রাশেদ ইসলাম ও জেলা সেক্রেটারি মোহিব্বুল্লাহ সহ অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে গণভোটের প্রাপ্ত রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সমস্ত গণহত্যাকারীদের আইনগত প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সাধারণ মানুষের এই সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো মেনে নেওয়া না হলে আগামীতে রাজপথে আরও কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।