কুড়িগ্রামের তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর অঙ্গসংগঠন জেলা যুবশক্তি। সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ নবাগত আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে কুড়িগ্রামে এই মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার বিকেলে জেলা শহরের জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ চত্বর থেকে বর্ণিল এই শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এরপর এটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন এক উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। পুরো শহরজুড়ে এ সময় এক উৎসবমুখর পরিবেশের দেখা মেলে।
শোভাযাত্রা শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক এম মাসুদুর রহমান মাসুদ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমাল। তরুণ নেতাকর্মীদের এই মিলনমেলায় অনন্য মাত্রা যোগ করে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতি। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ সাগর, দপ্তর সম্পাদক তারেক খান মজলিস তারা এবং যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি কর্মীর চোখে-মুখে ছিল সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এক কঠোর ও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক এম মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি বলেন, তাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্যই হলো জনকল্যাণ। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এই তরুণদের কাজ। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন, মাদক, চাঁদাবাজি এবং যে কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যুবশক্তি সব সময় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে। সমাজের চোখে যারা অপরাধী এবং যারা অন্যায় কাজের সাথে জড়িত, তাদের এই সংগঠনে কোনো স্থান নেই। তিনি তরুণদের নীতি ও আদর্শ মেনে রাজনীতি করার আহ্বান জানান।
একই সুর শোনা যায় সদস্য সচিব তারিকুজ্জামান তমালের কণ্ঠেও। তিনি নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, প্রতিটি উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিকে সব সময় সজাগ ও সক্রিয় থাকতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়ে সেবামূলক কাজ করাই হবে তাদের মূল ব্রত। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ বরদাশ করা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো নেশাখোর বা অপরাধীর আমাদের যুবশক্তিতে কোনো স্থান হবে না।
সমাবেশে উপস্থিত অন্য নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, তরুণ প্রজন্মের ভেতরের শক্তি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কুড়িগ্রামের সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক কার্যক্রমকে বেগবান করাই এই নবাগত কমিটির প্রধান লক্ষ্য। শোভাযাত্রার মাধ্যমে আজ যে ঐক্য ও উচ্ছ্বাস প্রদর্শিত হয়েছে, তা আগামী দিনে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী ও সুসংহত করবে বলে তারা গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা সংগঠনের সকল নেতাকর্মীকে নিজেদের মধ্যকার ছোটখাটো ভেদাভেদ ভুলে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কুড়িগ্রামের সামাজিক বাস্তবতায় তরুণদের এই উদ্যোগ এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।