দীর্ঘ ১৪ মাস পর দেশে আবারও শুরু হয়েছে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। দেশব্যাপী পরিচালিত এই জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের ১১ মাইলের সেফ হাসপাতালে দিনব্যাপী শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ২৮ জুন বাংলাদেশ সরকারের ইন্সটিটিউট অব পাবলিক হেলথের সহযোগিতায় সেফ হাসপাতালে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। যেখানে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান করা হয়েছে। অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী পরিচালিত এই সেবামূলক কার্যক্রমে এলাকার মোট ১৩৪ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
শিশুদের পুষ্টিগত ঘাটতি দূর করা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের স্বাভাবিক ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করার মহান লক্ষ্য নিয়েই এই মানবিক উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন এই কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর পুনরায় দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে মুজাবর্ণীতেও সফলভাবে ক্যাম্পেইনটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এমন উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
সেফ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ফিরোজ এম হাসান এই কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানবিক সাহায্য সংস্থা ও সেফ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে এবং ইন্সটিটিউট অব পাবলিক হেলথের সার্বিক সহযোগিতায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিন পর পুনরায় শুরু হওয়া এই ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি কেবল কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং এর জন্য পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজন। নিয়মিত এই ধরনের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠায় দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে আশপাশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে আসেন। দীর্ঘ বিরতির পর সন্তানদের এই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান দিতে পেরে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং উদ্যোগটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে অভিভাবকরা শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে নিয়মিত পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জোর আহ্বান জানান। কর্মসূচি শেষে আয়োজক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ভবিষ্যতেও এই অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক এবং সেবামূলক কার্যক্রম একইভাবে পরিচালনা করা হবে।