পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে এক নাবালিকা হাফেজিয়া মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার আট দিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ মেয়েটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার। আদরের সন্তানের কোনো সন্ধান না পেয়ে বাবা-মা এখন চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রশাসনের কাছে নিজেদের সন্তানকে দ্রুত এবং সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীর বাবা কাঠমিস্ত্রী মো. নুর আলম গত ২২ জুন তেঁতুলিয়া মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিবরণে জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা নুর আলমের ছোট মেয়ে মোছা. উম্মে হাবিব স্থানীয় আঠারখাড়ি নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করে। তেরো বছর বয়সী এই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে আঠারখাড়ি এলাকার মো. ফয়জুল হকের ছেলে মো. বেলাল বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব ও কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। উম্মে হাবিব তার এই অন্যায় প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় বেলাল ও তার সহযোগীরা তাকে নানাভাবে অপহরণের হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২২ জুন সকাল আনুমানিক আটটার দিকে উম্মে হাবিব যখন মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়, তখন পাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বেলাল, তার সহযোগী মো. সাদেকুল ও মো. মজিবুল মিলে তাকে জোরপূর্বক একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী মোটরবাইকটি দ্রুতগতিতে নসুরাপাড়া মসজিদের সামনে দিয়ে চলে যেতে দেখে পিছু নিলেও অভিযুক্তরা শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও উম্মে হাবিবের কোনো সন্ধান পাননি। নিরুপায় হয়ে নুর আলম অভিযুক্ত বেলালের বাবা মো. ফয়জুল হকের কাছে মেয়ের বিষয়ে জানতে যান। নুর আলমের অভিযোগ, তখন ফয়জুল হক দাবি করেন যে তিনি ছেলে ও মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে জানেন। তবে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি একটি শর্ত জুড়ে দেন। শর্তটি হলো, বেলালের সঙ্গে উম্মে হাবিবের বিয়ে দিতে হবে, তবেই মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই অন্যায্য শর্তে রাজি না হওয়ায় নুর আলমকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নিজের সন্তানকে হারানোর বেদনায় বুক ফেটে যাচ্ছে বাবা নুর আলমের। তিনি অশ্রুসজল চোখে বলেন, আমার মেয়েটা অবুঝ, নাবালিকা। তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। আট দিন হয়ে গেল, এখনো আমার মেয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। ওর মা না খেয়ে শুধু কাঁদছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, আমার মেয়েকে দ্রুত সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
এদিকে ঘটনার এতগুলো দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও মেয়েটিকে উদ্ধার বা কোনো সন্ধান না পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও উম্মে হাবিবের সহপাঠীরা। তারা অবিলম্বে এই মাদ্রাসাছাত্রীকে উদ্ধার এবং জড়িত অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ লাইছুর রহমান জানান, নিখোঁজ মেয়ের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।