পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় আজ এক ব্যতিক্রমী কৃষি আয়োজনে মিলিত হলেন গবেষক, কৃষিবিদ আর মাঠের কৃষক। শনিবার (২৭ জুন) দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যোগে এবং গাজীপুরের বারি তেলবীজ গবেষণা কেন্দ্রের বাস্তবায়নে দুটি পৃথক কিন্তু পরস্পর সম্পূরক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। একটি হলো তেলজাতীয় ফসলের উন্নত জাত ও উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ, অন্যটি গ্রীষ্মকালীন সবজি হিসেবে ঢেঁড়সের বীজ উৎপাদন কলাকৌশল এবং তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিবিষয়ক মাঠ দিবস।

দিনের শুরুতে প্রশিক্ষণ পর্বে কৃষকদের সামনে তুলে ধরা হয় তেলজাতীয় ফসলের উন্নত জাতের বৈশিষ্ট্য, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং বীজ সংরক্ষণ ও পরিচর্যার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। পরে মাঠ দিবসে গ্রীষ্মকালীন সবজি ঢেঁড়সের বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি ও বীজের গুণগত মান উন্নয়নের কৌশল উপস্থাপন করা হয়। এর পাশাপাশি ‘তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় বারি চিনাবাদাম-৯ ও বারি চিনাবাদাম-১১ জাতের উৎপাদনশীলতা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সরাসরি মাঠে দেখানো হয় কৃষকদের।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বারি গাজীপুরের কীটতত্ত্ব শাখার মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহাদাত হোসেন এবং দেবীগঞ্জ প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মোস্তাহেদ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির।

বক্তারা তাদের আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তারা বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ছাড়া বিকল্প নেই। গবেষণাগারের ফলাফল যদি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে কৃষকের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও তেলবীজ উৎপাদনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রশিক্ষণ ও আলোচনা পর্ব শেষে অতিথিরা প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন এবং কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, বারির গবেষক, স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।