পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে রবিবার সকাল থেকেই ছিল ভিন্ন এক আবহ। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এদিন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং দরিদ্র, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেন সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি— পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি নিজ হাতে তুলে দেন বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন, শিক্ষাবৃত্তির নগদ অর্থ ও ছাগল।

দিনের কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রী মোট তিনটি বাইসাইকেল ও দুটি সেলাই মেশিন তুলে দেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে, যাতে তারা নিজেদের জীবিকা নির্বাহে কিছুটা হলেও স্বাবলম্বী হতে পারেন। পাশাপাশি অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হয় ষাটটি ছাগল, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছোট একটি পুঁজি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তবে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শিক্ষাবৃত্তির নগদ অর্থ। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির দশজন শিক্ষার্থী পেয়েছে মাথাপিছু তিন হাজার টাকা করে, যার সম্মিলিত পরিমাণ ত্রিশ হাজার টাকা। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ছয়জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে পেয়েছে পাঁচ হাজার টাকা করে, মোট ত্রিশ হাজার টাকা। আর উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের, অর্থাৎ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুজন শিক্ষার্থী পেয়েছে সাত হাজার টাকা করে, যার যোগফল চৌদ্দ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে আঠারোজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, তিনি সকল ভোটারের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি, তাই সরকারি অনুদান ও সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে দল-মত নির্বিশেষে প্রকৃত অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, একজন মানুষ যে দলেরই হোক না কেন, তিনি যদি সরকারি সহায়তার যোগ্য হন, তাহলে তাকে সেই সহায়তা পেতেই হবে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিও একটি স্পষ্ট বার্তা দেন— প্রকৃত উপকারভোগীদের যথাযথভাবে বাছাই করে তাদের কাছেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে, যাতে কোনো প্রকৃত অসহায় মানুষ বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা, দেবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আক্তার হোসেন, দেবীগঞ্জ মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম এবং দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিমল চন্দ্র। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনী বসুনিয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি সরকার ফরিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সোহেল। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং উপকারভোগীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই মানবিক কর্মসূচির সাক্ষী হন।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির নগদ অর্থ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন এবং অসহায় পরিবারগুলোর হাতে ছাগল তুলে দেওয়া হয়। সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপকারভোগীরা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তাঁরা। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতারও একটি বাস্তব প্রতিফলন।