রংপুরের গংগাচড়া উপজেলায় দাদন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা, হত্যাচেষ্টাসহ নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলার ধনতোলা বাজারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন দক্ষিণ খলেয়া এলাকার বাসিন্দারা। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র চড়া সুদে দাদন ব্যবসা পরিচালনা করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে।
এদিকে গংগাচড়া মডেল থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ খলেয়া ধনতোলা সাত ঘড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ধান ব্যবসায়ী মো. লেবু মিয়া তার পিতা বদিয়ার রহমানকে নিয়ে গত ১৮ জুন সকালে ধান ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এর আগে লেবু মিয়ার চাচাতো ভাই যাদু মিয়া অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুদের ভিত্তিতে টাকা গ্রহণ করেছিলেন। ওই দেনা-পাওনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ জুন জমি বিক্রির অর্থ পরিশোধের বিষয় নিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে কথা কাটাকাটির জেরে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরদিন সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লেবু মিয়া ও তার পিতা বদিয়ার রহমানের পথরোধ করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মো. মাজেদুল ইসলাম, মো. এরশাদ আলী, মো. আবুল কাশেম, মো. হামিদুল ইসলাম, মোছা. মল্লিকা বেগম, মোছা. রিক্তা বেগম ও মোছা. আরজিনা বেগমসহ অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, হামলায় বদিয়ার রহমান গুরুতর আহত হন এবং তাকে প্রথমে গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া হামলার সময় ধান কেনার জন্য রাখা নগদ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং লেবু মিয়ার স্ত্রীকে মারধর ও শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীরা বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যাম্প ও চেকের বিপরীতে চড়া সুদে টাকা দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কয়েকগুণ অর্থ আদায় করছে। এরপরও বিভিন্ন মামলা দিয়ে দরিদ্র মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
তারা অবিলম্বে দাদন ব্যবসা বন্ধ, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে গংগাচড়া মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।