পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার এলাকায় শনিবার দিনভর এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সনদপত্র ও নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠান। স্থানীয় তালিমুল ইসলাম মডেল দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করে অভিভাবক, শিক্ষার্থী আর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। ছোট্ট শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে তখন এক ধরনের উত্তেজনা আর প্রত্যাশার ছাপ স্পষ্ট ছিল, কারণ আজই তাদের অনেকের হাতে উঠবে কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ সনদ ও পুরস্কার।
বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা এডুকেশন সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফলের ভিত্তিতেই এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই ও উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে এ ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকে, যেখানে অংশ নেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন সোনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষাই একটি জাতির মেরুদণ্ড, আর এই বৃত্তি পরীক্ষার মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে তাদের আরও বড় স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করবে।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রাইভেট মাদ্রাসা এডুকেশন সোসাইটির রংপুর বিভাগীয় পরিচালক হাফেজ মো. আরিফ আল মামুন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়নের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়, বরং একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পথেই প্রকৃত সাফল্য নিহিত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তালিমুল ইসলাম মডেল দাখিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. সাদিকুল ইসলাম। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আবুল কাশেম। তার সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মূল পর্বে বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের নাম ধরে ধরে মঞ্চে ডাকা হয়। একে একে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র ও নগদ অর্থের খাম। পুরস্কার হাতে নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকেই দেখা যায় উচ্ছ্বসিত, কেউ কেউ আবার লাজুক হাসিতে অভিভাবকদের দিকে তাকিয়ে নিজের আনন্দ প্রকাশ করে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ কেবল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করাই নয়, বরং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। শিক্ষার মান উন্নয়নে এ ধরনের পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিকেলের দিকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরস্কার বিতরণ পর্ব শেষ হয়। অনুষ্ঠান শেষে অনেক অভিভাবককে দেখা যায় সন্তানের সাফল্যে গর্বিত মুখে বাড়ির পথ ধরতে, যা পুরো আয়োজনকে এক অর্থবহ পরিণতি দেয়।