দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞকে সামনে রেখে সারা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরাসরি তদারকি করছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি। এরই অংশ হিসেবে তিনি আজ রংপুর এরিয়া পরিদর্শন করেন এবং মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত সেনাসদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সফরকালে সেনাপ্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি দায়িত্বরত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সেনাপ্রধানের এই সফর মূলত মাঠপর্যায়ের সেনাদের মনোবল চাঙ্গা করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার একটি অংশ।রংপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় সেনাপ্রধান যোগ দেন। সেখানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন। সভায় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একটি শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে সেনাবাহিনী যে অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরিকর, সভায় সেটি পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।
সেনাসদস্যদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান অত্যন্ত জোরালো ও মানবিক একটি বার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের জানমালের সুরক্ষায় ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ‘নাগরিকবান্ধব’ আচরণ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, জনগণের আস্থাই সেনাবাহিনীর প্রধান শক্তি।
পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধানের সঙ্গে ছিলেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড; ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর এরিয়া; এবং সেনাসদর ও স্থানীয় এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও রংপুর বিভাগীয় কমিশনারসহ অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শান্তিপূর্ণ ও ভীতিহীন পরিবেশে ভোটাররা যেন তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা প্রদানের লক্ষ্যেই সেনাবাহিনীর এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।