1. info2@icrbd24.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@icrbd24.com : admin :
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

ডোমারে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: নানির মৃত্যু, ভাগ্যক্রমে প্রাণে বাঁচল দুই শিশু

লালন সরকার, সিনিয়র রিপোর্টার ( ক্রাইম), পঞ্চগড়
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

নীলফামারীর ডোমারে সড়ক দুর্ঘটনায় আমিনা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় তার দুই নাতি-নাতনি আহত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে ডোমার-দেবীগঞ্জ মহাসড়কের চিলায় পাগলা বাজার ও ৮ নং ডোমার ইউনিয়ন পরিষদের মাঝামাঝি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনা বেগম তার ৪ বছর বয়সী নাতনি লামিয়া এবং ৬ মাস বয়সী নাতিকে কোলে নিয়ে একটি মিথিলা অটোভ্যান থেকে নেমে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় তিনি রাস্তা পার হওয়ার জন্য একটি ট্রাককে অনুসরণ করছিলেন। ঠিক তখনই দেবীগঞ্জগামী দ্রুতগতির দুইটি সিএনজির মধ্যে একটি সিএনজি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং কোলে থাকা দুই শিশু ছিটকে পড়ে যায়। ঘটনায় ৪ বছর বয়সী লামিয়া সামান্য আহত হয়, তবে ৬ মাস বয়সী শিশুর বড় ধরনের কোনো আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় ঘাতক সিএনজি চালক নিজেই আমিনা বেগমকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। মৃত্যুর পর সিএনজি চালক হাসপাতাল থেকে চলে যান এবং পরে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

 

অন্যদিকে আহত দুই শিশুকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে স্বজনরা নানাবাড়িতে নিয়ে যান। নিহত মোছা. মনি আক্তারের দুই সন্তান লামিয়া (৪) ও রাহিয়ান (৬ মাস) নানির সঙ্গে চিকিৎসকের কাছ থেকে ফেরার পথে এ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে জানা যায়।

 

আমিনা বেগম নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বড় রাউতা এলাকার মোঃ জসীরউদ্দীনের স্ত্রী আমিনার স্বামী দীর্ঘদিন থেকে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন তার তিন কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিয়েছেন এক ছেলে তাও আবার প্রবাসে রয়েছেন বলে জানা যায়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত ও সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

 

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আমিনা বেগম নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বড় রাউতা এলাকার মোঃ জসীর উদ্দীনের স্ত্রী। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতেই শয্যাশায়ী আছেন। তাদের তিন কন্যা সন্তানকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একমাত্র ছেলে বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন বলে জানা যায়। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত ও সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

 

মরদেহ পরবর্তীতে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেবীগঞ্জ থানার ও ডোমার থানা পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, ডোমার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায়।

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ৮নং ডোমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাসুম আহমেদ বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং চালকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। তিনি লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেন।

 

সিএনজির পিছনে থাকা অটোরিকশাচালক সমসের আলী বলেন, আমি দ্রুতগতিতে চলা দুটি সিএনজির পেছনে ছিলাম। তারা দূরত্ব বজায় রেখে এগোচ্ছিল পেট্রোল পাম্পে তেল নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কেউ কেউ আবার বলছিল, সিএনজি দুটি দেখে মনে হচ্ছে তারা কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। এ কথা বলতে বলতেই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে, বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2013- 2026