আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটের গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ দুই যুবককে আইনের আওতায় এনেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই যৌথ তৎপরতায় একটি বসতবাড়ির খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় শত শত বোতল অবৈধ ফেন্সিডিল বিকল্প সিরাপ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার চালিয়ে আসা এই দুই ব্যক্তির গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আজ বুধবার ভোর চারটা চল্লিশ মিনিটে স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহম্মেদের বসতবাড়িতে উপস্থিত হয় র্যাব-১৩, রংপুরের একটি চৌকস আভিযানিক দল। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে বসতঘরের শয়নকক্ষে রাখা খাটের নিচে দুটি প্লাস্টিকের বস্তার সন্ধান পান র্যাব সদস্যরা। পরে বস্তা দুটি খুলে তা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক জব্দ করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে মোট ৩৯৮ বোতল নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৯৮ বোতল এস্কাফ সিরাপ এবং ১০০ বোতল ফেয়ারডিল। অভিযানের সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় বাড়ির মালিক, কর্ণপুর গ্রামের আপ্তার আলীর ২৫ বছর বয়সী ছেলে রাজু আহম্মেদকে। একই সঙ্গে তার সহযোগী, একই এলাকার একরামুল হকের ৩৭ বছর বয়সী ছেলে শাহজাদা ইসলাম ওরফে শাওনকেও গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা দুজন বেশ কিছু দিন ধরে এলাকায় একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে মাদকের পসরা সাজিয়ে আসছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকা থেকে এসব ক্ষতিকর উপাদানের চালান সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছিলেন। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকবিরোধী এই শূন্য সহনশীলতার অংশ হিসেবেই এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এমন ঝটিকা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে এলিট ফোর্সটি।
অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও আটককৃত দুই কারবারিকে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়েছে। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। পরবর্তী বিচারিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে গ্রেপ্তারকৃত দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং উদ্ধার করা আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। অপরাধ দমন ও এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
পুরো ঘটনাটি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি। র্যাব-১৩, রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এবং অধিনায়কের পক্ষে বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো উপায়ে মাদকের বিস্তার রূখে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839