নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে এক বৃদ্ধাকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় র্যাবের যৌথ অভিযানে দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ এরশাদ আলী (৪৫) ও তার ছেলে মোঃ সজিব (২২)।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইং ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে লোকমারফত ভিকটিমের ভাই মোঃ হাফিজুল ইসলাম জানতে পারেন, তার বোন দেলোয়ারা ওরফে দুলালী বেগম (৬০) নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানাধীন ৮ নং গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জুম্মারপাড় তেলিপাড়া গ্রামে নিজ বসতবাড়ির আঙিনায় কে বা কারা গলাকেটে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মোঃ হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় পেনাল কোড ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ০৯, তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ইং।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ইং ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭টায় র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারী এবং র্যাব-৪, সিপিসি-২, নবীনগর, সাভার, ঢাকার যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন জয়নাবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন মোঃ এরশাদ আলী (৪৫), পিতা—মৃত ইসমাইল এবং তার ছেলে মোঃ সজিব (২২)। তাদের উভয়ের বাড়ি নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানাধীন জুম্মারপাড় (তেলিপাড়া) এলাকায়।
পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়কে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে বিপ্লব কুমার গোস্বামী নিশ্চিত করেছেন।