নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় র্যাব-১৩ এর অভিযানে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোঃ মশিউর রহমান (৪০) ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্বের সুবাদে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের দাখিলকৃত বিল উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে পাশ হওয়ার পর তা তাঁর নিকট জমা হতো।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামি পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষর জাল করে ইংরেজি ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর ১২টা ০৫ মিনিটে এবং ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর ১টা ২০ মিনিটে দুই ধাপে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, ডিমলা শাখা থেকে মোট ৩০ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। বিলগুলো অফিসে জমা না দিয়ে প্রতারণামূলকভাবে তিনি এ অর্থ তুলে নেন।
পরবর্তীতে আসামি অফিসে অনুপস্থিত থাকলে কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যাংক থেকে সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় ডিমলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাদী হয়ে নীলফামারীর ডিমলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাত সংক্রান্ত, মামলা নং-১৯, তারিখ ২৯/১২/২০২৫, ধারা ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪০৮/৩৪ পেনাল কোড।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামি আত্মগোপনে ছিলেন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারী এবং র্যাব-১৩ সদর কোম্পানি, রংপুরের যৌথ অভিযানে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানাধীন সিও বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে অভিযুক্ত মোঃ মশিউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুসার গোস্বামী।