• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে আখ ক্ষেতে জুয়ার আসর থেকে ২ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ও কারাদণ্ড অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মুখে নীলফামারীতে অপসারিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১৪ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দল নয়, মানুষই আমার প্রতীক: দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী ফরিদ সরকার বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: যাত্রীর শরীরে মিলল ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণ শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৫৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার খগাখড়িবাড়ীর রাজনীতিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন এবং স্থানীয়দের মূল্যায়নের বিশ্লেষণ বীরগঞ্জে টিএমএসএস করিমপুর ফাতেমাতুজ জোহরা হাসপাতালের সৌজন্যে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রায় বেনাপোল পৌরসভায় বিএনপির উদ্যোগ নীলফামারী ও গাইবান্ধায় এসআরবি-১৩-এর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৪ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মানববন্ধন

লালন সরকার, পঞ্চগড় (দেবীগঞ্জ)
শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নে ১৪ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী মোঃ জহিরুল মুন্সি (ওরফে জহুরাল)-এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের নুরুর বাজার এলাকায় স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এই মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা নৃশংস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানান।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মোঃ মনোয়ার ইসলাম, মোঃ মাজেদুল ইসলাম, মোঃ সামসুল হুদা,পাপ্পু ইসলাম বলেন, এমন জঘন্য অপরাধ সমাজে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। মানববন্ধনে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীসহ সকল পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী নারীরা বলেন, এই বাংলার ঠিকানায় ধর্ষণকারীদের কোনো ঠাঁই নেই। এই বাংলার ঠিকানায় জহুরালের মতো ধর্ষণকারীরও কোনো ঠাঁই নেই।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজের পর, সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকপাড়া এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জহুরাল, যিনি জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত, প্রতিবন্ধী শিশুটিকে বিস্কুট ও নগদ অর্থের প্রলোভনে তার চায়ের দোকানে নিয়ে যান। পরে, সেই শিশুটি সেখানে ধর্ষণের শিকার হয় বলে জানা গেছে।

একই ওয়ার্ডের সোনাহার নুরুর বাজার সংলগ্ন
কুমারগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ধর্ষিত শিশু মোঃ আব্দুল রাব-এর কন্যা। কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাকে কৌশলে জহুরাল ডেকে নিয়ে বিস্কুট ও নগদ অর্থের প্রলোভনে তার দোকানে নেওয়া হয়, পরে দোকান বন্ধ করে দোকানের পাশের বাড়িতে নিয়ে জহুরালের ঘরের বিছানায় মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে বলে শিশু জানায়। ঘটনার পরে ভুক্তভোগী শিশুর মা মোছাঃ হাচিনা বেগম দেবীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩। তাং ১২/১২/২০২৫ ইং।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ কুকিলের স্ত্রী মোছাঃ মিনারা বেগম, মোঃ সাত্তার আলীর স্ত্রী মোছাঃ রুকছানা বেগম এবং মোঃ আব্দুর রব-এর কন্যা মোছাঃ রাফিয়া বেগমসহ স্থানীয় নারী ও পুরুষরা বিষয়টি জানান। ঘটনাটি জুম্মা নামাজের পর ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী জানা যায়, মুদি দোকানদার জহুরাল শিশুটি দোকানে এলে দোকান বন্ধ করে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ঘটনাটি ঘটায়।পরবর্তীতে কয়েকজন স্থানীয় নারী জহুরালের চাচাতো ভাই আব্দুল কাদের জিলানিকে সঙ্গে নিয়ে জহুরালের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। প্রায় ১৫–২০ মিনিট পর জহুরাল সাড়া দেয়। পরে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে শিশুটিকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখেন। শিশুটিকে ধমক দিলে সে ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে সবকিছু জানায়। এরপর শিশুটি বাড়িতে চলে যায়। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একজন জামায়াতের সমর্থক এ ধরনের নেক্কারজনক কাজ কীভাবে করতে পারে-আমরা তার বিচার চাই। তবে ঘটনার পরদিন থেকেই জহিরুল বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত জহুরাল আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় তার কিংবা তার পরিবারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে. এম. মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামি গ্রেফতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন সচিব আব্দুস সুবাহান জানান, অভিযুক্ত জহুরান জামায়াতে ইসলামী দলের একজন সমর্থক এবং তিনি গত তিন বছর ধরে জামায়াতের হয়ে কাজ করছেন।


এরকম আরও সংবাদ