নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ মূলত অফিসের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তারা হলেন, জলঢাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব রক্ষক মো. একরামুল হক এবং একই অফিসের অফিস সহায়ক মো. মোক্তার হোসেন। উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন, এমপিও সংক্রান্ত কাজ এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি নির্ধারণসহ নানা প্রশাসনিক কার্যক্রমে অসঙ্গতি দেখা গেছে। স্থানীয় শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে অতিরিক্ত বইয়ের চাহিদা দেখিয়ে সরকারি বই বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। অফিসের স্টোররুমে কোটি টাকার সরকারি বই মজুদ থাকা সত্ত্বেও টাকার বিনিময়ে এসব বই বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাডেট একাডেমি জলঢাকা, জাহান রেসিডেন্সিয়াল, ক্যালকুলাস স্কুল, সানরাইজ স্কুল ও শিমুলবাড়িসহ উপজেলার প্রায় ১৬টি কোচিং প্রতিষ্ঠানে এসব বই সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিভিন্ন নির্বাচন চলাকালে একই ব্যক্তির নাম প্রেসাইডিং, সহকারী প্রেসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দেখিয়ে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, নীতিমালা লঙ্ঘন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষকরা জানান, শিক্ষা অফিসের এমন অনিয়মের কারণে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং শিক্ষক সমাজের মধ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।