পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের খারিজা গুয়াগ্রামের হাজরাডাঙ্গা ১৮ ঘর এলাকায় টিউবওয়েলের পানি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে দুই ভাই—ফরিদুল ইসলাম (৪০) ও রহিদুল ইসলাম (৩৩)-এর বাড়ির টিউবওয়েলের পানি বড় ভাইয়ের বাড়ির দিকে প্রবাহিত হওয়াকে কেন্দ্র করে বাক-বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মোছাঃ আঞ্জুআরা বেগম (৩৫), ফরিদুল ইসলামের স্ত্রী, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধে জড়িত ছিলেন। ঘটনার দিন জমি-জমা সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে রহিদুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, আইয়ুব আলী (ওরফে আইবালী), আতিকুল ইসলাম, ফিরোজ ইসলাম, শরিফা বেগম, মরিয়ম বেগম ও ফাতেমা বেগম আঞ্জুআরার বাড়িতে প্রবেশ করে স্বামী তার দুই নাবালক ছেলে আনুমানিক ১৪-১৫ বছরের রাহাত ও রাহিন এবং আঞ্জাআরা বেগমের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে থাকা লোহার শাবল, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে আঞ্জুআরাকে এলোপাতাড়ি পেটায়। রহিদুল ইসলামের হাতে থাকা ধারালো শাবলের আঘাতে আঞ্জুআরার মাথায় গুরুতর চোট লেগে তিনি আহত হন।
স্থানীয়রা আহতকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর ভোররাতে আঞ্জুআরা বেগম মারা যান। বিকেল পর্যন্ত তার লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়। নিহতের ভাই জামান সানাই এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ ঘটনায় নিহত আঞ্জুআরা বেগমের বড় ভাই ১০নং চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড প্রধানপাড়া এলাকার, মৃত জুলহাস উদ্দীনের ছেলে মোঃ জামান সানাই (৩৬) দেবীগঞ্জ থানায় ৮ জনকে আসামী করে ২৩ অক্টোবর একটি লিখিত এজাহার দাখিল করিলে থানা এজাহার গ্রহণের পর মামলা হয়। দেবীগঞ্জ থানায় মামলাটি নম্বর–২৬, তারিখ: ২৩/১০/২০২৫ ইং হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা জানান, “মামলাটি আমরা পেয়েছি। প্রধান আসামি রহিদুল ইসলামকে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিকটিমের মৃত্যুর বিষয়টি আদালতে রিপোর্ট আকারে জানানো হবে।