• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পাকা ধানে মই দিলে ফসল মেলে না: ফলাফল শূন্য হওয়ার আগেই থামা উচিত দিনাজপুরে বাবা-সৎভাই হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে দুই ভাই গ্রেপ্তার গাইবান্ধায় জমি বিরোধে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার নাশকতা চেষ্টা ও সরকার উৎখাতের মামলায় পঞ্চগড়ের সাবেক এমপির স্ত্রী কাজী মৌসুমী কারাগারে অবুঝ মেয়েটার জন্য না খেয়ে কাঁদছেন মা, বুকফাটা আর্তনাদ পঞ্চগড়ের নুর আলমের ডোমারে ২০ বোতল অবৈধ এস্কাপ সিরাপসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ঠাকুরগাঁওয়ের সেফ হাসপাতালে দীর্ঘ ১৪ মাস পর ১৩৪ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান দীঘিনালায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার, দ্রুত তদন্তের নির্দেশ ডোমারে পুত্রবধূ হত্যা মামলার পলাতক আসামি শ্বশুর চিলাহাটি থেকে গ্রেফতার দেবীগঞ্জে ঢেঁড়সের বীজ উৎপাদন ও চিনাবাদামের উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ে মামলার আসামি হানিফ মেম্বার!

মোশাররফ হোসেন, বীরগঞ্জ
রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫


দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত আক্রোশ আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে অবশেষে মামলার আসামি হয়েছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবু হানিফ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

 

দীর্ঘদিনের বিরোধ, চাপা উত্তেজনা

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিসের সাথে মেম্বার আবু হানিফের বিরোধ আজকের নয়, এ বিবাদ দীর্ঘদিনের। উভয় পক্ষের সমর্থকরা বলছেন, এই বিরোধ সম্পর্কে বীরগঞ্জের প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই অবগত। দু’বছর আগেও একবার এই দুই জনপ্রতিনিধি প্রকাশ্য বৈঠকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। সে সময় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে একটি শান্তিপূর্ণ মীমাংসা হলেও, হানিফ মেম্বারের মনে প্রতিহিংসার আগুন ধিকি ধিকি জ্বলছিল। সুযোগের অপেক্ষায় তিনি নাকি দীর্ঘদিন ধরেই প্রহর গুনছিলেন প্রতিশোধ নিতে।

উঠান বৈঠকে চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা

গতকাল, ২৬শে জুন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খলসী বাজার সংলগ্ন হানিফ মেম্বারের বাড়ির কাছে বাবুল ও দুলুর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে একটি উঠান বৈঠক বসে। দিনভর জমি পরিমাপের পর সেখানেই চূড়ান্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়েছেন আবু হানিফ মেম্বার। গণঅধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত উপজেলা সভাপতি এবং বহু পদাধিকারী এই মেম্বার বৈঠকের মধ্যেই ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিসকে অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি শারীরিকভাবে চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করার জন্য তেড়ে আসেন। তবে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা, বিশেষ করে মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে ফরিদ আলীসহ অনেকেই রুখে দাঁড়ান এবং হানিফ মেম্বারকে পিছু হটতে বাধ্য করেন।

স্ত্রী-পুত্রও পাশে ছিলেন না

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হানিফ মেম্বারের নিজের ছেলে রাজিব এবং স্ত্রী রোজিনাও তার পক্ষ অবলম্বন করেননি। হানিফ মেম্বার এলাকাবাসীর সহযোগিতায় চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন।

মারপিট ও অর্থ চুরির অভিযোগে মামলা

এরপরই ঘটে আরও গুরুতর ঘটনা। অভিযোগ, হানিফ মেম্বার, তার স্ত্রী রোজিনা এবং ছেলে রজিবুল মিলে চেয়ারম্যানের সমর্থক ফরিদ আলীকে বেধড়ক মারধর করেন। শুধু তাই নয়, তার পকেট থেকে পঁচিশ হাজার টাকা অসৎ উদ্দেশ্যে হাতিয়ে নেন। এখানেই শেষ নয়, তারা চেয়ারম্যানকে আটকে রেখে তার পকেট থেকে পঁচাত্তর হাজার টাকাও চুরি করেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ফরিদ আলী বাদী হয়ে আবু হানিফ মেম্বারকে প্রধান অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেছেন, যার নম্বর ২২।

পুলিশের অভিযান ও হানিফের ফেসবুক লাইভ

ঘটনার রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত হানিফের বাসায় অভিযান চালায়। তবে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে, যেখানে অভিযুক্ত হানিফ মেম্বার ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন যে তার বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল।

বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদ-বিক্ষোভ

আনিস চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করার সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে সাথে নিয়ে মিছিল করতে করতে থানা গেটে এসে জড়ো হন। বিক্ষুব্ধ জনতা হানিফ মেম্বারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিয়ে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত বিপুল সংখ্যক জনতাকে শান্তনা দিতে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, ফজলে আলম শাহীন, আলহাজ্ব তানভীর আহমেদ চৌধুরী, শাহজাহান সিরাজ শিপন, আরিফ মাসুম পল্লব, আব্দুল জব্বার সহ অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।

বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল গফুর ছুটিতে থাকায় ইন্সপেক্টর তদন্ত শিহাব উদ্দিন ঘটনার সময় দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও, বীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন সরকার, ইন্সপেক্টর তদন্ত শিহাব উদ্দিন, এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনি, এএসআই সিরাজুল আওলাদ সুমন ও সকল স্টাফবৃন্দ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন।

হানিফের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ

এদিকে, অভিযুক্ত মেম্বার আবু হানিফকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে তিনি ‘বীরগঞ্জ টিভি’ নামে একটি ফেসবুক পেজে ঘটনার বিষয়ে নিজের বর্ণনা দিয়ে ভাইরাল হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ জনতা ও বক্তারা আবু হানিফকে ‘নানান অপকর্মের হোতা’ এবং এলাকার মানুষকে অহেতুক হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন।

এই ঘটনা বীরগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। পুলিশের তদন্ত এবং মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে এই ঘটনার ভবিষ্যৎ।


More News Of This Category