আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় পনেরো বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী কিশোরীকে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। একই সাথে বিষয়টি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন ও আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকার ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নিয়মিত পড়াশোনা করত। পাশ্ববর্তী বালাপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা তইবুল ইসলামের ছেলে মোঃ মেরেজুল ইসলাম মিরাজের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযুক্ত মোঃ মেরেজুল ইসলাম মিরাজ স্থানীয় আল-মিরাজ ক্যাডেট একাডেমিক অ্যান্ড হিফযুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
কিশোরীর বাবা মোঃ মজিদুল ইসলাম সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করে জানিয়েছেন, গত একুশে সেপ্টেম্বর রাতে মেরেজুল ইসলাম মিরাজ তার নাবালিকা মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে অন্যায়ভাবে ভাগিয়ে নিয়ে যান। সেই রাতের পর থেকে মেয়ের সঙ্গে পরিবারের সমস্ত প্রকার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মেয়েটিকে জোরপূর্বক বা নানা কৌশলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাকে স্বজনদের কাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে আড়ালে রাখা হয়েছে। মেয়েটি এখনও অত্যন্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত ও ফুসলিয়ে স্থানীয় ওই মাদ্রাসা থেকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। আদরের মেয়ের কোনো সন্ধান বা তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পেরে পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে।
অন্যদিকে উত্থাপিত সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মিরাজের বাবা তইবুল ইসলাম জানান, তার ছেলে ও ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে ভালোবাসার সম্পর্ক বিরাজ করছিল। মেয়েটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়তে আসত এবং সেই সুবাদেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি আরও দাবি করেন, পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে তারা ওই কিশোরীর পরিবারের কাছে দুইবার গিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ের পরিবার কোনোভাবেই তার ছেলের সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারে সম্মতি প্রকাশ করেনি। পরবর্তীতে মেয়েটি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে তাদের বাড়িতে চলে আসে এবং আশ্রয় নেয়। বর্তমানে মেয়েটি তার ছেলের সঙ্গেই নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য মতে, কিশোরী মেয়েটির বয়স অত্যন্ত কম হওয়ায় পুরো ঘটনাটি আইনি ও মানসিকভাবে ভীষণ সংবেদনশীল। তাকে সত্যিই নিজের ইচ্ছায় নিয়ে আসা হয়েছে, নাকি কোনো প্রকার প্রলোভন বা অন্য কোনো উপায়ে প্রভাবিত করা হয়েছে, সেই বিষয়টি একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে এই ঘটনায় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সার্বিক নিরাপত্তা, তার নিজস্ব ইচ্ছা এবং প্রচলিত আইনগত অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন। কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ডিমলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করলে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা ও কিশোরীর বর্তমান অবস্থানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলো সবার সামনে পরিষ্কার হতে পারে। ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় তৈরি হওয়া গভীর উদ্বেগের পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল মাদ্রাসা শিক্ষক ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর এমন সম্পর্কের বিষয়টিও স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্তের কাজ শেষ হওয়ার আগে কারো বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য না করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য শ্রবণ এবং যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839