• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পাকা ধানে মই দিলে ফসল মেলে না: ফলাফল শূন্য হওয়ার আগেই থামা উচিত দিনাজপুরে বাবা-সৎভাই হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে দুই ভাই গ্রেপ্তার গাইবান্ধায় জমি বিরোধে চাচাকে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেফতার নাশকতা চেষ্টা ও সরকার উৎখাতের মামলায় পঞ্চগড়ের সাবেক এমপির স্ত্রী কাজী মৌসুমী কারাগারে অবুঝ মেয়েটার জন্য না খেয়ে কাঁদছেন মা, বুকফাটা আর্তনাদ পঞ্চগড়ের নুর আলমের ডোমারে ২০ বোতল অবৈধ এস্কাপ সিরাপসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ঠাকুরগাঁওয়ের সেফ হাসপাতালে দীর্ঘ ১৪ মাস পর ১৩৪ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান দীঘিনালায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার, দ্রুত তদন্তের নির্দেশ ডোমারে পুত্রবধূ হত্যা মামলার পলাতক আসামি শ্বশুর চিলাহাটি থেকে গ্রেফতার দেবীগঞ্জে ঢেঁড়সের বীজ উৎপাদন ও চিনাবাদামের উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে কৃষক প্রশিক্ষণ ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সিরাজদিখানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শেয়ার দেওয়ার নামে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতা শরিফের বিরুদ্ধে

ফয়সাল আহমেদ, ঢাকা
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শেয়ার বা অংশীদারিত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজাহারের ছেলে শরীফের বিরুদ্ধে এই প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন টিপু চৌধুরী নামের এক ভুক্তভোগী। ঘটনাটি উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মরন মার্কেট এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী টিপু চৌধুরী জানান, অভিযুক্ত শরীফ নিজেকে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা অংশীদার হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি টিপু চৌধুরীকে এই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবসায় লাভজনক শেয়ার বা অংশীদারিত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেন। রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যাংকের সম্পৃক্ততার কথা বিশ্বাস করে তিনি বিভিন্ন সময়ে শরীফকে মোট ৬০ লাখ টাকা প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাকে কোনো শেয়ার বা ব্যবসার মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

 

পরবর্তীতে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের অজুহাত ও সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ হারিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন চরম আর্থিক অনটন ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।

 

ভুক্তভোগী টিপু চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে শরীফ এলাকার আরও অনেক মানুষের কাছ থেকে একই কায়দায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তবে স্থানীয়ভাবে অনেকের মুখে এই ধরনের গুঞ্জন শোনা গেলেও এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

 

এলাকাবাসীর দাবি, সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে যারা এভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ মানুষকে এমন প্রতারণার শিকার হতে না হয়।

 

এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত শরীফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এই ঘটনায় তার সুনির্দিষ্ট মন্তব্য বা অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি। তবে পরবর্তীতে তার কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

 

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত পেতে এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েছেন। তারা ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


More News Of This Category