দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর সদর স্লুইচ গেট রাস্তার মিয়া মার্কেটে দোকান ঘর ভাঙচুর, মার্কেট মালিককে মারধর, চুরি, ছিনতাই এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মাকরাই এলাকার কামিল উদ্দিনের ছেলে পিয়ালসহ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের এজাহারনামীয় ১৪ জন এবং অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ১৬ জন সহ সর্বমোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে বীরগঞ্জ থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্ত মোতলেবুর রহমান ফারুক মিয়া। ২৪(৮)২৬ নম্বরে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়।
বাদীর লিখিত এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বর্ণনা থেকে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রনেতা পিয়ালের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল মিয়া মার্কেটের সামনে রবিউল ইসলাম নামের এক যুবককে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। মার্কেট সংলগ্ন বাদীর বাসা হওয়ায় বিশৃঙ্খলা দেখে বাদীর স্ত্রী ও তাঁর ভাই জুয়েল মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ত্রাসীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা বাদীর স্ত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং জুয়েল মিয়াকে বেদম মারপিট করে। একই সঙ্গে তারা পুরো মার্কেট এলাকায় মারাত্মক ত্রাস সৃষ্টি করে দোকান মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। হামলাকারীরা সাধারণ মানুষের মালামাল, মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাট করে বীরদর্পে এলাকা ত্যাগ করে। এই চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ২১ তারিখের ঘটে যাওয়া ঘটনায় থানায় মামলা করতে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে বাদী জানান, হামলায় মারাত্মক আহত ছোট ভাইয়ের জরুরি চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি সময়মতো থানায় উপস্থিত হতে পারেননি।
মারাত্মক আহত অবস্থায় জুয়েল মিয়াকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে জুয়েল মিয়া সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত পিয়ালসহ অন্যান্য আসামিরা পলাতক থাকার কারণে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্তদের অভিভাবকদের দাবি, যাঁদের নামে মামলা করা হয়েছে তাঁদের অধিকাংশই কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সদস্য। এটিকে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এই মেধাবী ছাত্রদের আসামি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক ও ভিত্তিহীন।

এ বিষয়ে ২৭ আগস্ট সকালে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, গতকাল ২৬ আগস্ট বাদীর লিখিত এজাহার হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বীরগঞ্জ থানার এসআই আতাউর রহমানের ওপর।