পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক নারীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করেছে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ। ৩১ বছর বয়সী ওই আসামিকে নিজ এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হেফাজতে নেয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের মোস্তফাপুর ডাঙ্গী পাড়া আশ্রয়ণ এলাকার বাসিন্দা ওই ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ তুলেছেন যে, অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক তাঁর বাড়ির পাশেই বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরেই আসামি তাঁকে কু-নজরে দেখে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় তাঁকে অশালীন প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তবে ভুক্তভোগী নারী সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আসামি তাঁর ক্ষতি করার জন্য নানা সময় সুযোগ খুঁজতে থাকেন এবং গোপনে তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে শুরু করেন।
এজাহারে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ভুক্তভোগী নারী নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সুযোগে আব্দুর রাজ্জাক চতুরতার সঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়েন এবং ঘুমন্ত নারীর মুখ চেপে ধরেন। এরপর জোরপূর্বক তাঁর পোশাক খুলে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় ভুক্তভোগী নারী আত্মরক্ষার্থ ও সহায়তার জন্য চিৎকার শুরু করলে আশপাশের এলাকার লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসতে থাকেন। স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে আসামি আব্দুর রাজ্জাক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নারী নিজের নিরাপত্তা ও বিচার চেয়ে দেবীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে আব্দুর রাজ্জাককে একক অভিযুক্ত করে একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারটি পাওয়ার পরপরই দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে এবং তৎক্ষণাৎ অভিযানে নেমে মামলার প্রধান আসামি আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা এজাহারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে মামলার এজাহারে উল্লেখিত এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরবর্তী আদালতের আইনগত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।