দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন ও ভুয়া কাবিননামার ফাঁদে ফেলে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে কথিত কাজি রয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ ৪ জুন দুপুরে উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের ঢেপা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া রয়েল ওই এলাকার মৃত সানাউল্লাহ ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি একজন নারীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মামলার বাদী পারভীন খাতুন প্রেম বাজার এলাকার চা দোকানদার মংঙ্গু’র মেয়ে। তিনি আগে অন্য একজনের স্ত্রী ছিলেন এবং স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক মেম্বারের সাথে তার সংসার ছিল। কিন্তু এলাকার বিতর্কিত যুবক রয়েল দীর্ঘদিন ধরে পারভীনকে নানাভাবে ফুঁসলিয়ে এবং প্রলোভন দেখিয়ে তার সেই সংসার ভাঙতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে রয়েল তাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। রয়েল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিকাহ রেজিস্টার বা কাজির সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল এবং এই পরিচয়ের আড়ালে সে গোপনে বিভিন্ন অবৈধ বিবাহ রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করত।
সহজ সরল পারভীন খাতুনকে নিজের জালে আটকাতে রয়েল নিজেই কাজি সেজে বিবাহ সম্পন্ন করার নাটক সাজায়। সে পারভীনকে বিশ্বাস করায় যে তাদের আইনসম্মত বিয়ে হয়েছে। এই বিশ্বাসের ওপর ভর করে সে পারভীনকে কখনো ভাড়া বাসায় আবার কখনো নিজের বাড়িতে রেখে স্ত্রীর মতো দীর্ঘদিন ধরে সংসার চালায় এবং তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখে। এভাবে দিনের পর দিন পারভীনকে স্ত্রীর অধিকার দেওয়ার নাম করে সে আসলে চরম প্রতারণা ও লালসা চরিতার্থ করে আসছিল।
সম্প্রতি এই প্রতারক ও ভুয়া কাজি রয়েলের আসল রূপ প্রকাশ পায় যখন সে পারভীনকে সরাসরি জানিয়ে দেয় যে সে তাকে কোনো বিয়েই করেনি। শুধু তাই নয়, সে পারভীনকে নিজের বাড়ি থেকে নির্মমভাবে তাড়িয়ে দেয়। একজন নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে তার সংসার ভাঙা এবং পরবর্তীতে বিয়ের নামে এমন ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে পারভীন খাতুন সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন। নিজের ওপর হওয়া এই অন্যায়ের বিচার চেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেন।
পারভীন খাতুন বাদী হয়ে দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে গত ১ জুন বীরগঞ্জ থানায় মামলাটি ১ নম্বর মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তৎপরতা শুরু করে এবং আজ দুপুরে তাকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রয়েল এলাকায় একজন উশৃংখল যুবক হিসেবে পরিচিত এবং তার নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সে আগে থেকেই বহুল সমালোচিত ছিল। বিয়ের মতো পবিত্র একটি বন্ধনকে পুঁজি করে এবং ধর্মীয় অনুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সে যেভাবে একজন নারীর জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তাতে স্থানীয় মানুষ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল। আজ দুপুরের দিকে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার খবরটি যখন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ ও স্বস্তি দেখা যায়। আমাদের বীরগঞ্জ প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, এলাকার মানুষ এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সরল নারী এভাবে প্রতারণার শিকার না হয়। পুলিশ রয়েলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।