আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: বর্ষার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে তিন মাসব্যাপী বিশেষ উদ্যোগ। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬ শীর্ষক এই বৃহৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তার সংলগ্ন এলাকা জুড়ে একটি নিবিড় পরিচ্ছন্নতা ও স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশের একাধিক জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় এ ধরণের আগাম ও সমন্বিত পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার সকালে বেতগাড়ী হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের ঝোপঝাড় এবং জমে থাকা স্তূপীকৃত ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে এবং মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে বিদ্যালয় ভবনের চারপাশে ও ড্রেনগুলোতে বিশেষ কীটনাশক স্প্রে করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতেই মূলত এই ঝটিকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন মাসের জাতীয় কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। শনিবার সকাল নয়টায় দেশের জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ अभियाনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্বোধনের পর পরই রংপুরসহ দেশের প্রান্তিক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে তৎপর হয়ে ওঠে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সামাজিক সংগঠন।
গংগাচড়ায় পরিচ্ছন্নতা ও স্প্রে কার্যক্রম চলাকালে উপস্থিত ছিলেন বেতগাড়ী হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোরশেদুল হক এবং সহকারী শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সরাসরি তদারকি করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কবি ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাবুলসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ। তারা সবাই মিলে নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা পরিষ্কারে অংশ নেন এবং মশা নিধন কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করেন।
স্থানীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগের সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। উপস্থিত শিক্ষক ও প্রতিনিধিরা জানান, ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে কেবল সরকারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংস্থা এমনকি ব্যক্তি পর্যায় থেকেও নিজ নিজ বসতবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। বাসাবাড়ি কিংবা সংলগ্ন এলাকায় যাতে কোনোভাবেই তিন দিনের বেশি পরিষ্কার বা ময়লা পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বস্তরের মানুষকে চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানানো হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন মাসব্যাপী বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই জাতীয় কর্মসূচির অধীনে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে টানা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে প্রতিটি অঞ্চলে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে নিয়মিত এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ উদ্বুদ্ধ হবে এবং ডেঙ্গুর ভয়াল বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839