কুড়িগ্রামে জমির সীমানা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সৎ ভাইকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান পলাতক আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন সাওড়াতলী (পূর্ব পাড়া) এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ আব্দুল মান্নান (৩০)। তিনি মৃত তছুমদ্দিনের ছেলে এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্য কুমরপুর (বড়পাক) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিহত মোঃ আব্দুল কুদ্দুস (৬৫)-এর সৎ ভাই।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিমের সঙ্গে আসামির পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে আসামি ও তার সহযোগীরা ভিকটিমকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে ভিকটিম মোঃ আব্দুল কুদ্দুস ও তার ছেলে মোঃ রাসেল মিয়া পৈতৃক আবাদি জমিতে ধান রোপণ করতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি ও তার সহযোগীরা কুড়াল ও কোদাল হাতে অবৈধভাবে দলবদ্ধ হয়ে সেখানে অনধিকার প্রবেশ করে এবং কাজে বাধা দেয়।
এ সময় ভিকটিম প্রতিবাদ করলে আসামি ক্ষিপ্ত হয়ে তার হাতে থাকা কুড়াল দিয়ে ভিকটিমের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে ভিকটিম মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর-০২, তারিখ: ০২/০১/২০২৬ খ্রি., ধারা: ৪৪৭/৩২৬/৩০৭/৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থাকলেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের যৌথ অভিযানে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের সহিংস ঘটনা প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধভাবে কাজ করছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।