• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে আখ ক্ষেতে জুয়ার আসর থেকে ২ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ও কারাদণ্ড অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মুখে নীলফামারীতে অপসারিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১৪ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দল নয়, মানুষই আমার প্রতীক: দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী ফরিদ সরকার বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: যাত্রীর শরীরে মিলল ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণ শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৫৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার খগাখড়িবাড়ীর রাজনীতিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন এবং স্থানীয়দের মূল্যায়নের বিশ্লেষণ বীরগঞ্জে টিএমএসএস করিমপুর ফাতেমাতুজ জোহরা হাসপাতালের সৌজন্যে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রায় বেনাপোল পৌরসভায় বিএনপির উদ্যোগ নীলফামারী ও গাইবান্ধায় এসআরবি-১৩-এর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মুখে নীলফামারীতে অপসারিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান

রাহেনা বারী আয়না, স্টাফ রিপোর্টার (ডিমলা) নীলফামারী
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: একজন প্রকৃত সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পরিচয় নয়, বরং তাঁর হাতে থাকা কলম। সেই কলম যখন সত্য অনুসন্ধানের সাহসে এগিয়ে যায়, তখন ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা পদ-পদবির দেয়ালও আর অটুট থাকে না। সমাজের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায়ের মুখোশ উন্মোচনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা তাই কেবল সংবাদ প্রকাশের কাজ নয়, এটি সমাজের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতা। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর কিশোরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে। চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক আবু সাঈদ অপুর ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যিনি গ্রেনেড বাবু নামে পরিচিত, তাঁর বিরুদ্ধে খাস জমি দখল, সরকারি সম্পদ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয় জনসম্মুখে তুলে ধরেন। এসব প্রতিবেদন চ্যানেল ওয়ানসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, সাংবাদিকের কাজ কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়। সাংবাদিকের কাজ হলো তথ্য, নথি, প্রমাণ ও মানুষের বক্তব্য অনুসন্ধান করে সত্যকে জনসম্মুখে তুলে ধরা। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করে অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায় আছে কি না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারীর কার্যালয়ের ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ৪৬.০০.৭৩০০.০০০.০১৭.২৭.০০০৩.২৫-৮৩২ নম্বর স্মারকের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মোঃ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই পত্রে চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ মোছাঃ মালেকা বেগমকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। পত্রটির স্মারক নম্বর ০৫.৪৭.৭৩৪৫.০০১.১৭.০০৩.২৫- এবং তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এখানে মনে রাখতে হবে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রকাশিত তথ্য যখন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং প্রশাসনিক তদন্ত ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়, তখন একটি সংবাদ কেবল সংবাদ হয়ে থাকে না, সেটি জবাবদিহির সূচনাও করতে পারে।

সাংবাদিকের কলম কি সত্যিই পরিবর্তন আনতে পারে। হ্যাঁ, পারে। একজন সাহসী সাংবাদিক যখন কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানে নামেন, তখন তাঁর সামনে থাকে নানা চাপ, ভয়, প্রভাব এবং বাঁধা। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিক যদি ব্যক্তিগত বিদ্বেষের পরিবর্তে নথি, তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক দলিলের ওপর নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর প্রতিবেদন সমাজের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। সাংবাদিক আবু সাঈদ অপুর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার এই ঘটনাপ্রবাহ যেন সাংবাদিক সমাজের জন্যও একটি অনুপ্রেরণা। ক্ষমতাবানকে ভয় নয়, সত্যকে ভয় করতে হবে। ব্যক্তিকে নয়, তথ্যকে অনুসরণ করতে হবে। প্রতিশোধ নয়, জবাবদিহিই হতে হবে সাংবাদিকতার লক্ষ্য।

একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের হাতে ক্যামেরা থাকতে পারে, রেকর্ডার থাকতে পারে, নোটবুক থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সত্য যাচাই করার মানসিকতা এবং অন্যায়ের সামনে নত না হওয়ার সাহস। আজ যে অন্যায়টি ক্ষমতার আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে, আগামীকাল সেটিই হয়তো একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনসম্মুখে চলে আসবে। যে মানুষটি ভাবছেন তাঁর ক্ষমতা তাঁকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখবে, তাঁকে মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রের আইন ও জনগণের অধিকার ব্যক্তি বা পদবির চেয়ে বড়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাই সাংবাদিক আবু সাঈদ অপুর প্রশংসা করার পাশাপাশি একটি কথাও বলা জরুরি, একজন সাংবাদিকের সাফল্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তাঁর প্রতিবেদন ব্যক্তিগত আক্রমণে সীমাবদ্ধ না থেকে জনস্বার্থ, সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। সাংবাদিকদের জন্য এটি হোক অনুপ্রেরণা।

 

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক অন্যায় ঘটে, অনেক অনিয়ম চোখের সামনে ঘটে, অনেক মানুষ অন্যায়ের শিকার হয়েও কথা বলতে ভয় পান। সেখানে একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের দায়িত্ব আরও বড়। একটি সত্যনিষ্ঠ প্রতিবেদন হয়তো সঙ্গে সঙ্গে কোনো পরিবর্তন আনবে না। কিন্তু সেটি প্রশাসনের দরজায় প্রশ্ন তুলতে পারে, তদন্তের পথ খুলতে পারে, জনগণকে সচেতন করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

 

শ্রদ্ধাভাজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মহোদয়ের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, কলম থামাবেন না, তবে কলমকে দায়িত্বশীল রাখুন। প্রশ্ন করুন, তবে প্রমাণের ভিত্তিতে। অনুসন্ধান করুন, তবে নিরপেক্ষভাবে। ক্ষমতার কাছে নয়, সত্যের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন। কারণ একটি বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হয়তো একজন সাংবাদিকের ক্যারিয়ারের একটি অধ্যায় মাত্র, কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটিই একটি সমাজের জন্য হয়ে উঠতে পারে জবাবদিহির নতুন দরজা খোলার চাবিকাঠি।

 

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের এই ঘটনাপ্রবাহ সেই বার্তাই আবার সামনে এনেছে। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো একটি কলম কখনোই ছোট শক্তি নয়। কারণ সেই কলমের কালি শুকিয়ে গেলেও, তার প্রশ্নের উত্তর একদিন না একদিন দিতেই হয়। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বেঁচে থাকুক চিরদিন এই প্রত্যাশা করছি আজ। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সাহসী সাংবাদিকতা আরও শক্তিশালী হোক।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ