আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মর্মান্তিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নিত্যনতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার আগে ও পরে প্রায় ৮০ ঘণ্টার ব্যবধানে গ্রেফতারকৃত দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে অন্তত ৮০ বার মুঠোফোনে যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বল্প সময়ে এই বিপুল সংখ্যকবার ফোনালাপের বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং এর পেছনে গভীর কোনো পূর্বপরিকল্পনা কিংবা চক্রান্ত ছিল কি না তা এখন গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত সোমবার রাত ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, দুই আসামির মধ্যে এই ঘন ঘন যোগাযোগের পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল তা উদঘাটনে ডায়াল হিস্ট্রি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পরিবারের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার তদন্তের সূত্র ধরে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া মুগ্ধ দাসের বাবা কানু দাস এবং সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস সম্পর্কে পরস্পরের ফুফাতো ভাই। ফলে পারিবারিক সূত্রেই সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে সুসম্পর্ক ও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তবে নৃশংস এই ঘটনার সময়সীমার মধ্যে তাদের এমন ঘন ঘন কথা বলা সাধারণ পারিবারিক যোগাযোগের বাইরে অন্য কোনো সংকেত বহন করছে কি না তা ভাবিয়ে তুলছে তদন্তকারীদের।
অন্যদিকে ঘটনার সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন ধোঁয়াশা। দুই আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর ডোপ টেস্ট করা হলে সেই ফলাফলে কোনো ধরনের মাদকের উপস্থিতি মেলেনি। ইতিপূর্বে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, ঘটনার রাতে আসামিরা ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও তারা ঘটনার আগে ও পরে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু ডোপ টেস্টের চূড়ান্ত রিপোর্টে মাদকের প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশের সেই প্রাথমিক দাবির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি বড় ধরণের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। এখন এই ল্যাব পরীক্ষার ফলাফলকে তদন্তকারীরা কীভাবে মূল্যায়ন করছেন এবং আসামিরা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্মরণ করা যেতে পারে, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরদিন ভোরেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে গ্রেফতারকৃত আসামিরা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও প্রদান করেছেন।
তবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্ত্বেও চার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত নেপথ্য কারণ, দুই আসামির মধ্যে স্বল্প সময়ে ৮০ বার ফোনালাপের মূল রহস্য এবং ডোপ টেস্টের নেগেটিভ ফলাফলের পর পুরো ঘটনার তদন্ত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন এলাকবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সব প্রশ্নের উত্তর পেতে অধিকতর ও নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839