আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বাজার অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দিনাজপুরে ও কুড়িগ্রামে পৃথক দুটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে এলিট ফোর্স র্যাব-১৩ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অভিযানের খবর পেয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় সংস্থা দুটির পক্ষ থেকে এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

দিনাজপুর সদর পৌরসভা এলাকায় সকাল থেকেই ছিল এই যৌথ দলের উপস্থিতি। র্যাব-১৩ সিপিসি-১ দিনাজপুর এবং জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ পরিচালনায় একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
অভিযান চলাকালে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়মবহির্ভূত ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের তথ্য পাওয়া যায়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯-এর ৪৩ ধারা লঙ্ঘনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আদালত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা নির্দেশ দেন।

এর মধ্যে হৃদয় এগ্রো ইন্ড্রাস্ট্রির স্বত্বাধিকারী মো. ইমরান খানকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই ধারায় অভিযুক্ত হয়ে ফুড কেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. কবিরকে ৩০ হাজার টাকা এবং বিএ ফুড অ্যান্ড বেকারির স্বত্বাধিকারী আনন্দকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। খাদ্যের মান বজায় রাখতে ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পণ্য উৎপাদনে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়।
দিনাজপুরের অভিযানের দিনেই কুড়িগ্রামেও পৃথক একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আভিযানিক দলটি। সেখানে যৌথভাবে অংশ নেয় র্যাব-১৩ এবং জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অভিযানে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন বাজারের ঔষধ পণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ও খাদ্যপণ্য তৈরির কারখানা পরিদর্শন করা হয়।
অভিযানে মূল নজর দেওয়া হয় ঔষুধের সঠিক মান নিশ্চিতকরণ, মেয়াদ উত্তীর্ণ উপাদান পরীক্ষা, সাধারণ বাজারে নিয়মিত তদারকি বজায় রাখা এবং পণ্য মজুতদারদের রোধ করার ওপর। এই সময়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯-এর ৩৭, ৪১, ৪২, ৪৩ ও ৪৫ ধারা ভঙ্গের অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরিদর্শনের সময় একটি অনুমোদনহীন খাদ্য কারখানার সন্ধান পান আভিযানিক দল। ওই কারখানায় উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রীর গায়ে কোনো ধরনের ব্যাচ নম্বর, বিএসটিআই বা প্রমিত মার্ক, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষের তারিখ উল্লেখ ছিল না। স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে ঘটনাস্থলেই সেসব অনুমোদনহীন কারখানায় উৎপাদিত মালামাল ধ্বংস করা হয়।
র্যাব-১৩ এর কর্মকর্তা এবং আভিযানিক দল জানিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধ, কোনো ধরনের অবৈধ বাজার সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্রকে গড়ে উঠতে না দেওয়া, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি ঠেকানো এবং সর্বোপরি খাবারে ভেজাল দেওয়া বন্ধে তাদের প্রতিরোধমূলক কাজ চলমান থাকবে।
জনস্বার্থ রক্ষা ও ভোজ্যপণ্যের সঠিক মান নিয়ন্ত্রণে র্যাব-১৩ এর এই ধরনের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি ও চলমান মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ আগামী দিনগুলোতেও বজায় থাকবে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839