বরিশাল নগরীর কেডিসি এলাকা থেকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া এই পুলিশ কনস্টেবলের নাম তনহাদ আহমেদ নীরব এবং তার বয়স পঁচিশ বছর। সমাজকে মাদক মুক্ত রাখার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তাদেরই একজন যখন এমন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন, তখন তা সাধারণ মানুষের মনে গভীর হতাশা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে অপরাধের কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় নেই এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর কেডিসি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ কনস্টেবল তনহাদ আহমেদ নীরব বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসের রেশন স্টোরে কর্মরত ছিলেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের আড়ালে তার এমন আইনবিরোধী তৎপরতা সবাইকে স্তম্ভিত করেছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সাদা পোশাকধারী পুলিশ কনস্টেবল তনহাদ আহমেদ নীরব কেডিসি কলোনি থেকে বের হচ্ছিলেন। সেই সময় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের আওতাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক মেহেদী হাসান তাকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং গ্রেপ্তার করেন। পরে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সামনে তার শরীর তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৫ পিস ইয়াবা এবং ২ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের কাছ থেকে এভাবে মাদক উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অন্যান্য পেশাদার সদস্যদের জন্যও বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এই অপ্রীতিকর ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হয়নি। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার আনুষ্ঠানিকতা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইনানুযায়ী পরবর্তী সব ধরনের বিভাগীয় ও আইনি কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং অপরাধের সাথে যুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।