নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে এক নারীকে লাঞ্ছিত ও জোরপূর্বক অবমাননার চেষ্টার অভিযোগে একটি বাড়ির কেয়ারটেকার জামাল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে ডোমার থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ছত্রিশ বছর বয়সী জামাল ইসলাম স্থানীয় চিলাহাটি পোস্ট অফিস সংলগ্ন চিকিৎসক দুলাল হোসেনের পরিত্যক্ত বাসায় কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার, দোসরা জুন ভোর পাঁচটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে।
ডোমার থানার মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন ভোরে প্রতিবেশী হাসপাতাল পাড়া এলাকার পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী নারী শারমিন আক্তার তার ছোট ভাতিজিকে সাথে নিয়ে চিকিৎসক দুলাল হোসেনের বাড়ির গেটের সামনে যান। এ সময় কেয়ারটেকার জামাল ইসলাম তাদেরকে গাছের পাকা আম দেওয়ার কথা বলেন। জামালের কথামতো শারমিন আক্তার ও শিশু সন্তানটি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলে সেই সুযোগ কাজে লাগায় জামাল। সে বাড়ির প্রধান গেট বন্ধ করে দেয় এবং শারমিন আক্তারকে জোরপূর্বক অবমাননা ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শারমিন আক্তার নিজের সম্ভ্রম রক্ষার্থে চিৎকার শুরু করেন এবং একপর্যায়ে জামালকে ধাক্কা দিয়ে আত্মরক্ষা করে নিজ বাড়িতে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
ঘটনার কিছু সময় পর অভিযুক্ত জামাল ইসলাম নিজের ভুল বুঝতে পেরে শারমিন আক্তারের বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। তবে এই সময় শারমিন আক্তারের বাড়ির লোকজন তাকে ঘরে আটকে রেখে পুলিশে সংবাদ দেয়। খবর পেয়ে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জামালকে গ্রেফতার করে ডোমার থানায় নিয়ে যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মস্পর্শী ঘটনার পর ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার নিজে বাদী হয়ে ডোমার থানায় জামাল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ এর ৪ খ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ডোমার থানার তদন্ত কর্মকর্তা আজগার আলী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নারীর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জামাল ইসলামকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং তাকে নীলফামারী জেলার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়া জামালের স্ত্রী মনিরা বেগম এই ঘটনার সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হতে পারে।