• বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী ডিমলায় পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুশয্যায় জামাল উদ্দিন, অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষা কর্মকর্তা কচাকাটায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত রংপুর মাছুয়াপাড়ায় চার মৃত্যু: ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার ফোনালাপ ও ডোপ টেস্টের নেগেটিভ ফলে তদন্তে নতুন মোড় পল্লবী থেকে নিখোঁজ শিশু রংপুরে উদ্ধার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করল র‌্যাব দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামে র‌্যাবের যৌথ অভিযান, ৪ কারখানাকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা শিরোনাম-২: অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য ধ্বংস ও অর্থদণ্ড, দিনাজপুরে র‌্যাবের কঠোর অভিযান গঙ্গাচড়ায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু রংপুর সদরে জমি দখল ও মব তৈরির অভিযোগ: অতর্কিত হামলায় আহত একাধিক, যৌথবাহিনীর হস্তক্ষেপ বীরগঞ্জে সার সিন্ডিকেট রোধে যৌথ প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান, প্রায় ৩২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষা কর্মকর্তা

রফিকুল ইসলাম বাবুল, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) রংপুর
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে আসার পর অভিভাবকেরা তাঁকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার জেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের অফিসকক্ষে প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন। পরে পরিস্থিতি জানতে বিদ্যালয়ে গেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদকেও অবরুদ্ধ করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে পুলিশি পাহারায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বাইরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যরা বিদ্যালয়ের আশপাশে শক্ত অবস্থান নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসা থেকে বিরত ছিলেন।

বুধবার সকালে তিনি হঠাৎ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে অভিভাবকেরা তাঁকে আটকের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রীও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ওই শিক্ষকের অসংযত আচরণে ছাত্রীরা সবসময় এক ধরনের অস্বস্তি বোধ করত। তারা এখন ওই শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

কয়েকজন অভিভাবকের দাবি, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার সময় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছিল। তবে অতীতের সেসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে স্থানীয়দের শান্ত করে পুলিশি পাহারায় তাঁদের নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি বিদ্যালয়ে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষক যেন আর কখনোই শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সেই বিষয়ে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি সম্পূর্ণ পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি কখনোই কল্পনা করতে পারেননি যে ওই শিক্ষক এমন জঘন্য আচরণ করতে পারেন। বিষয়টি জানার পরপরই তা ঊর্ধ্বতন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছবুর জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে বের করে নিয়ে আসেন।

এডিটর:আই জামান চমক হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ