• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে আখ ক্ষেতে জুয়ার আসর থেকে ২ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ও কারাদণ্ড অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মুখে নীলফামারীতে অপসারিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১৪ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দল নয়, মানুষই আমার প্রতীক: দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী ফরিদ সরকার বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: যাত্রীর শরীরে মিলল ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণ শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৫৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার খগাখড়িবাড়ীর রাজনীতিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন এবং স্থানীয়দের মূল্যায়নের বিশ্লেষণ বীরগঞ্জে টিএমএসএস করিমপুর ফাতেমাতুজ জোহরা হাসপাতালের সৌজন্যে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ লক্ষ্যমাত্রায় বেনাপোল পৌরসভায় বিএনপির উদ্যোগ নীলফামারী ও গাইবান্ধায় এসআরবি-১৩-এর অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ভুয়া পরোয়ানা এড়াতে সত্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক ও এনআইডি যুক্তের হাইকোর্টের নির্দেশ

সংবাদদাতা:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: আদালতের নামে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তৈরি করে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি বা তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের পথ বন্ধ করতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মানবিক রায় দিয়েছেন উচ্চ আদালত। সোমবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম এবং বিচারপতি মুরাদ-এ-মওলা সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ভুয়া পরোয়ানা সংক্রান্ত একটি রুল নিষ্পত্তি করে এই ঐতিহাসিক নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের মূল বার্তা হলো, এখন থেকে কেবল কাগজ বা পরোয়ানা হাতে পেলেই কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো নাগরিককে সরাসরি গ্রেপ্তার করতে পারবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে যে আদালতের সেই নির্দেশটি আসল নাকি ভুয়া।
আদালত স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার ঠিক পূর্বমুহূর্তে পুলিশকে তাদের কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। সেখান থেকে যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে যে পরোয়ানাটি সত্যি কোনো আদালত থেকে জারি করা হয়েছে কি না। কেবল ডেটাবেজে সত্যতা মেলার পরেই কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুয়া কাগজের ভিত্তিতে নিরীহ নাগরিকদের গ্রেপ্তার এবং অহেতুক মানসিক ও সামাজিক হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে একটি সরকারি পরিপত্র বা সার্কুলার আকারে জারি করে সমস্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শককে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
শুধু গ্রেপ্তারের সময় সতর্ক থাকাই নয়, ভুয়া মামলার উৎস বন্ধ করতে মামলার একদম শুরুতেই বাদী এবং তার আইনি প্রতিনিধির পরিচয় নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিচারকদ্বয়। রায় অনুযায়ী, এখন থেকে নিম্ন আদালতে যেকোনো নালিশি বা সিআর মামলা দায়ের করার সময় বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি এবং মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবীর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তিনি অবিলম্বে দেশের প্রতিটি জেলা জজ, মহানগর জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সকল নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে এই বিধান অনুসরণের স্পষ্ট বার্তা পাঠান।
সংবিধান ও দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আদালত অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, একজন নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে। এই আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কিছু করা হলে তা আইনের বড় ধরনের ব্যত্যয় হিসেবে গণ্য হবে। রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলা হয়েছে, মামলা করা এবং গ্রেপ্তারের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ ভুয়া নথি বা অসৎ উদ্দেশ্যে করা মামলার মাধ্যমে কোনো মানুষের জীবন ও স্বাধীনতায় আঘাত আসলে তার যে ক্ষতি হয়, তা পরবর্তী সময়ে কোনোভাবেই মেটানো বা পূরণ করা সম্ভব নয়।
এই আইনি লড়াইটির পটভূমি বেশ আবেগপ্রবণ ও জনস্বার্থনির্ভর। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তৈরি করে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করা এবং কারাগারে পাঠানোর মারাত্মক কিছু খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছিল। সেসব প্রতিবেদন নজরে আসার পর সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন দায়ের করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে দীর্ঘ শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।
শুনানি শেষে আইনজীবীরা জানান, দেশের বিচারব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই রায় এক বিরাট ভূমিকা রাখবে। এখন থেকে কেন্দ্রীয় সার্ভারে পরোয়ানার তথ্য না থাকলে পুলিশ কাউকেই সরাসরি আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারবে না। বাদীর সঠিক জাতীয় পরিচয়পত্র মামলার নথিতে থাকলে ভুয়া পরিচয় দিয়ে মামলা করার সংস্কৃতিও বন্ধ হবে। আইনের অপব্যবহার রোধ করে সাধারণ মানুষের মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষা দিতে হাইকোর্টের এই রায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ