আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই বাংলাদেশি নারী। তবে সেখানে গিয়ে তাঁদের কপালে জুটেছে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার গ্লানি আর দীর্ঘ কারাভোগ। অবশেষে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বেনাপোলে স্বদেশে ফিরেছেন তাঁরা। বেনাপোল ও শার্শা প্রতিনিধি জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
দেশে ফিরে আসা এই দুই নারী হলেন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ঘাঘা গ্রামের বি এম ল্যাবুর মেয়ে লাবনী বিশ্বাস এবং নড়াইল সদর থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিষখোলা এলাকার জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের মেয়ে মনি বিশ্বাস। দীর্ঘ সময় পর নিজেদের মাটিতে পা রেখে তাঁদের চোখেমুখে ছিল এক মিশ্র অনুভূতি, যেখানে স্বস্তির পাশাপাশি ছিল দুঃসহ স্মৃতির ছাপ।
জানা গেছে, ভালো কাজ ও জীবিকার আশায় গত ৪ আগস্ট দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধপথে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর বোম্মানাহাল্লি থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সাজা হয়। কারাভোগ শেষে এই দুই নারীকে বেঙ্গালুরুর বালামন্দির চাইল্ড হোমে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর অবশেষে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আইনি প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভারতের চেন্নাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে গত ৩ জুলাই তাঁদের জন্য বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়। এরপর ব্যাঙ্গালোর এফআরআরও দপ্তর থেকে গত ৪ সেপ্টেম্বর ইস্যুকৃত এক্সিট পারমিটের ভিত্তিতে তাঁদের দেশে প্রত্যাবাসন করা সম্ভব হয়েছে।
বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় এই প্রত্যাবাসনকালে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ, ১০২ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার এবং বোম্মানাহাল্লি থানার সাব-ইন্সপেক্টর। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষে তাঁদের গ্রহণ করেন বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ সাইফুর রহমান এবং ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার।
হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সাইফুর রহমান জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ফিরে আসা দুই নারীকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট পোর্ট থানায় পাঠানো হয়েছে।
পরবর্তীতে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফ হোসেন নিশ্চিত করেন যে, প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই দুই নারীকে তাঁদের স্বজনদের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যশোরভিত্তিক এনজিও সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বর্তমানে তাঁরা নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ওই দুই নারীর স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনেরা এসে পৌঁছালে তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের শেল্টার হোমে সম্পূর্ণ নিরাপদ হেফাজতে থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839