• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিশ্বাসের চাদরে টান: শ্বশুরবাড়ির ১৩ লাখ টাকার গহনা নিয়ে ভাগা ঘরজামাই অবশেষে ধরা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অতীতের আন্দোলনের তুলনা নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান পটুয়াখালীতে ইমাম-খতিরসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার বাদীই মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার গঙ্গাচড়ায় ফিলিং স্টেশনে পরিমাপে ত্রুটি, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি ও কর্মী আটক পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের জন্য পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুল সিলেবাস থিয়েটার কার্যক্রমের শুভ সূচনা তথ্য পাচারের সন্দেহে ডিএমপির ৫০টি থানার রাইটারদের গণবদলি টাঙ্গাইলে সরকারি শিশু পরিবারের ৮ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকার মেধাবৃত্তি প্রদান কক্সবাজারের লিংক রোডে ১৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই মাদক কারবারি খুলনায় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলার অভিযুক্ত রিফাত পিরোজপুর থেকে গ্রেপ্তার

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০০ বছরের সমৃদ্ধির পথে হাঁটবে বাংলাদেশ: পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির

রফিকুল ইসলাম রফিক, সিনিয়র রিপোর্টার (পঞ্চগড়)
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সীমান্তঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ের মাটি ও মানুষের ভাগ্য বদলে দেওয়ার এক দৃঢ় প্রত্যয় ঝরল ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের কণ্ঠে। জেলা বিএনপির আয়োজনে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি যদি সরকার গঠন করে তবে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের আধুনিক ও উন্নত এক বাংলাদেশের ভিত রচিত হবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, বিএনপির মাধ্যমেই পঞ্চগড়ের সাথে বাংলাদেশকে তথা সারা বিশ্বের মানুষ নতুন করে চিনবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় বিশ্বাসী এবং ক্ষমতায় এলে দলের দেওয়া ৩১ দফার রাজনৈতিক কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দীন সরকারের সুযোগ্য পুত্র, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনকে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণী এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন। জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষের সামনে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—তারেক রহমানের এই স্লোগান কেবল একটি কথা নয়, এটি একটি দর্শন। এই নির্বাচনে এ দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে হলে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করা অপরিহার্য।

তারেক রহমানের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে নওশাদ জমির জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের প্রত্যেকটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রদান করা হবে। শিক্ষিত বেকারদের জন্য কেবল আশ্বাস নয়, বরং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করে তাদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে তিনি বন্ধ হয়ে যাওয়া পঞ্চগড় চিনিকলটি পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া পঞ্চগড়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক সদর হাসপাতালের মান উন্নয়নের অঙ্গীকার করেন তিনি।

তরুণ প্রজন্মের বিকাশে তিনি পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপনের কথা বলেন, যেখানে তারা জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের জন্য জেলায় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গড়ে তোলার পাশাপাশি পাথর ও চা শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করার বিশেষ পরিকল্পনাও তার বক্তব্যে উঠে আসে। ব্যারিস্টার নওশাদ জমির বলেন, আমাদের সদিচ্ছা আছে এবং তা দিয়েই আমরা বাংলাদেশকে অনেক সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। একইসাথে পঞ্চগড় পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও উন্নত পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান তিনি।

পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম কাজল, যুগ্ম আহ্বায়ক ও জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আদম সুফি, যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মজিদ এবং অ্যাডভোকেট রিনা পারভীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী এজেন্ট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওফেল জমির, জেলা জজ আদালতের জিপি ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ বারী, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবু, তেতুঁলিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাহীন, পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান বাবু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি আঞ্জুমান আরা মুক্তি, বাংলাদেশ ওলামায়ে ইসলামের জেলা আমীর মাওলানা মনিরুজ্জামান এবং বাংলাদেশ গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সভাপতি সাজেদুর রহমান সাজু। জনসভার শেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সংহতি আগামীর এক নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করে তোলে।


এরকম আরও সংবাদ