রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০০ বোতল ফেয়ারডিল নামের অবৈধ মাদকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। মাদক পাচারের এই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিয়ে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির প্রমাণ মিলেছে।
পুলিশ সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, রংপুরের পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বড়াইবাড়ী গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধার করা ফেয়ারডিল মাদকের ১০০টি বোতল তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন ওই উপজেলার চিলাখাল এলাকার আব্দুল মান্নানের ৩১ বছর বয়সী ছেলে মো. আজহারুল ইসলাম এবং একই এলাকার মজমুল হকের ২৬ বছর বয়সী ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে তারা কৌশলে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষ করে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর জানান, মাদক নির্মূলে তাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। সমাজ থেকে মাদকের মতো ব্যাধি পুরোপুরি দূর করতে তাদের নিয়মিত এই তৎপরতা এবং জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে গভীর রাতে পুলিশের এই অভিযানে দুজন আটক হওয়ার খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আক্ষেপ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, যুবসমাজকে মাদকের নির্মম ছোবল থেকে বাঁচাতে হলে এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে অবিরাম ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া খুব বেশি প্রয়োজন। তারা চান অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।
পুলিশ সূত্রে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জব্দ করা মাদকদ্রব্যসহ আটক দুই ব্যক্তিকে গঙ্গাচড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬ এর ১ সারণির ১৪ এর গ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। অপরাধীদের আদালতের মাধ্যমে বিচারে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।