আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন বেশ উত্তপ্ত। এই উত্তাপের মধ্যেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাওয়া শোকজ নোটিশের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। আজ রবিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার পর বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছোট ভাই ব্যারিস্টার নওফল জমির। অত্যন্ত বিনয়ী কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
ব্যারিস্টার নওফল জমির বলেন, “আমরা শুরু থেকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রিটার্নিং কর্মকর্তার নোটিশে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, আমাদের মনে হয় সেগুলো কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়মের মধ্যে থেকেই লাগিয়েছি।”
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি), যখন জেলা প্রশাসন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নওশাদ জমিরের বিরুদ্ধে আচরণ বিধিমালার কয়েকটি নির্দিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭(গ), ৭(৬), ১৩, ১৫(গ) ও ১৬(ক) ধারা ভঙ্গের কথা জানানো হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে নওফল জমির প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে আরও বলেন, “আমাদের কোনো কাজই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেনি। তাই জোর করে ব্যানার-ফেস্টুন ভেঙে ফেলা বা সরিয়ে ফেলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রশাসনের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, দয়া করে আপনারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়ে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিষয়টি বিচার করুন।”
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধেই পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। আজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিএনপির প্রার্থী তার আইনি ব্যাখ্যা জমা দিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীর পরিবারের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মানিক, পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ইরান এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনে তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।