• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বীরগঞ্জে মাদক কারবারি ও সেবনকারী জাকির হোসেনের ৬ মাসের জেল পঞ্চগড়ে জামায়াত ও শিবিরের গণমিছিল: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর ও বিচার দাবি রংপুর পুলিশ লাইন্স কেন্দ্রে প্রক্সি দিতে এসে ধরা, ক্যাডেট এএসআই নিয়োগে জালিয়াতি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার পঞ্চগড়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সনাতনীদের বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন পঞ্চগড়ে ১৮ বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন, বৃষ্টি উপেক্ষা করে সীমান্তবর্তী মানুষের উপচে পড়া ভিড় বীরগঞ্জে মাদকবিরোধী বার্তা নিয়ে কল্যাণী মানবিক একতা সংগঠনের প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত জলঢাকায় বিধবা ও এতিম পরিবারের জমি দখলের অপচেষ্টা, গভীর রাতে বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি জুড়ে অপপ্রচারের অভিযোগ, বিচার চেয়ে পঞ্চগড়ে তরুণীর সংবাদ সম্মেলন ডোমারে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধন ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

রংপুর পুলিশ লাইন্স কেন্দ্রে প্রক্সি দিতে এসে ধরা, ক্যাডেট এএসআই নিয়োগে জালিয়াতি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

রফিকুল ইসলাম সাবুল, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম), রংপুর
রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সফল অভিযানে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে চার সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ভুয়া আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। অভিযানকালে পুলিশ জাল প্রবেশপত্র, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য ও বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করে। জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়, রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সরাসরি নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল গত ৩১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রংপুরের পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় দায়িত্ব পালনকালে এক ভুয়া পরীক্ষার্থীকে সন্দেহজনক অবস্থায় জাল প্রবেশপত্রসহ আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে স্বীকার করে যে জাল প্রবেশপত্র তৈরি করে সে অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিল। তার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গোয়েন্দা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থীসহ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও আটক করতে সক্ষম হয়।

ঘটনার গভীর তদন্তে পুলিশ জানতে পারে যে, ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চক্রটি এক প্রার্থীর সঙ্গে মোট ১৭ লাখ টাকার বিশাল অংকের চুক্তি করেছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রাথমিক ধাপেই প্রার্থীর স্বজনদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমা নেওয়া হয়। অর্থ লেনদেনের পর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রার্থীর কাছে তৈরি করা ভুয়া প্রবেশপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে এই প্রতারণা, আর্থিক লেনদেন এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির সুস্পষ্ট নানা প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. বাদশা মাসউদ আলম, মো. তাজমিলুর রহমান এবং মো. নুরুল ইসলাম। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানার সার্বিক সহায়তায় চক্রের মূল অন্যতম সদস্য মো. নুরুল ইসলামকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে আসছিল। শুধু জাল প্রবেশপত্র তৈরিই নয়, ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চপদস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করেও মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করত এই চক্রের সদস্যরা। জালিয়াতি ও প্রতারণার এই ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেনসেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর ৩ ও ১৩ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪০৯, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৪, ১০৯, ১৭০ ও ৩৪ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই চক্রটির শিকড় কতদূর বিস্তৃত তা অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


More News Of This Category