রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল আটটার দিকে উপজেলার বেতগাড়ী-পাগলাপীর সড়কের শাহপাড়া মোড়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগলে এই বিয়োগান্তক ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান প্রান্তীক গোস্বামী রঙ্গন নামের সতেরো বছর বয়সী ওই তরুণ। নিহত রঙ্গন উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের রামনগরপাড়া গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র গোস্বামীর একমাত্র ছেলে। তিনি ধনতলা রেয়াজউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। একটি মাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা-মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে এখন ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার বাতাস।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, রোববার সকালে নিজের মোটরসাইকেলটি নিয়ে পাগলাপীর বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন রঙ্গন। সকালের শান্ত সড়কে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় শাহপাড়া মোড়ে পৌঁছালে আকস্মিকভাবে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে প্রচণ্ড শক্তিতে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই রঙ্গন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়। পরীক্ষার মাঝপথে এসে এভাবে একটি সম্ভাবনাময় প্রাণের ঝরে পড়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠী ও শিক্ষকেরা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সি আব্দুস ছবুর এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এদিকে পরীক্ষার্থী রঙ্গনের এমন আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পুরো গঙ্গাচড়া এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা এসে শোকস্তব্ধ পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে বাড়িতে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তিনি শোকগ্রস্ত বাবা-মা ও স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং নিহতের আত্মার শান্তি কামনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেন। একটি সাধারণ সকাল যে একটি পরিবারের জন্য এমন অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনবে, তা যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না রামনগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।